রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের মাঠে প্রার্থীরা এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। তবে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবেগ। নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষককে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তার একসময়ের সতীর্থ ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার রাশেদুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে রাশেদুল লিখেছেন, “এই অস্পষ্ট ছবিটাই আমার জীবনের সেরা ছবি। কারণটা খুবই স্বাভাবিক, গায়ে বাংলাদেশের জার্সি। বিশেষ কারণ আছে আরও একটি। ছবির তিনজন মানুষ— আমিনুল হক, রজনীকান্ত বর্মণ ও মতিউর মুন্না। বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বললে বলা যায়, তারকা খ্যাতিতে ২০০৩ সালের সাফ জয়ী কিছু খেলোয়াড় আমার কাছে এমনই উচ্চতায়; মেসি ও রোনালদো মিলিয়েও যেন একজনের সমান।”
২০০৯ সালে এপ্রিলে লাওসের বিপক্ষে জাতীয় দলের ক্যাম্পে প্রথম দিনের স্মৃতি সামনে নিয়ে এসে রাশেদুল লিখেছেন, “বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে (বাফুফে ভবন) জাতীয় দলের ক্যাম্পে প্রথম বিকাল। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে ইমন বাবু ও মানিক ভাইয়ের সঙ্গে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।
“রিপোর্টিং শেষে দলীয় সভায় আমিনুল হক, মতিউর মুন্না, রজনী কান্ত বর্মণদের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রথম বসা। আমার চোখেমুখে বিস্ময় ও মুগ্ধতা দেখে জাতীয় দলের তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা ডিডো বলে দিলেন, কার অটোগ্রাফ লাগবে নিয়ে নাও।”
এরপর আমিনুল প্রসঙ্গে বলেন, একে একে সবার কাছে গিয়ে নাম–পরিচয় দিলাম। সত্যি কথা বলতে পরিচয় দেওয়ার মতো কিছুই নেই। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে ফুটবল পৃথিবীতে পুঁজি বলতে অনূর্ধ্ব-১৪, ১৭ ও ১৯ পর্যায়ে জাতীয় দলে খেলা। সেই আমি আমিনুল হক-মতিউর মুন্নাদের সতীর্থ। তিনি লেখেন, “সেই বিকালে আমিনুল ভাইয়ের ভূমিকাটা এখনও আমার কাছে স্পষ্ট। প্রথম পরিচয়ে সম্পর্কটা সহজ করে নিলেন নিজেই, ‘তোমাকে আমি চিনি, মারুফ (কোচ মারুফুল হক) ভাই তোমার ব্যাপারে আমাকে বলেছেন।”’
আরও যোগ করেন তিনি, “ব্যস, দেশসেরা গোলরক্ষক ক্যাম্পে হয়ে উঠলেন আমার অভিভাবকের মতো। যার খেলা টিভিতে দেখে হাততালি দিয়েছি, অনুশীলন দেখার জন্য ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিকেএসপির ফুটবল মাঠে গাছের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছি, সেই আমিনুল হয়ে উঠলেন আমার সতীর্থ ও অভিভাবক। যেকোনও প্রয়োজনে বাফুফে ভবনের চতুর্থ তলার আমিনুল হকের ৪০১ নম্বর রুমের দরজা খোলা।”
ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল তার স্মৃতিচারণে আমিনুলের নেতৃত্বগুণের একটি বিশেষ উদাহরণ তুলে ধরেন। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালীন রাশেদুলের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। কোচ ও পরিবারের চাপ সামলাতে এগিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক আমিনুল। রাশেদুলের ভাষায়, “শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন চলছে? তত দিনে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মূল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার লড়াইয়ে নিজেকে সঁপে দিয়েছি। কিন্তু বাবা-মাকেকে বোঝাবেন?
“ক্যাম্পে চাউর, এইচএসসি পরীক্ষার ‘প্যারা’ টেনে ধরেছে আমাকে। কোচ ডিডো হাসেন, জাতীয় দলের খেলার সুযোগ পেয়েও কিনা পড়াশোনার চিন্তা করছে কেউ। এই দোটানা মনোভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য কোচের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলো অধিনায়ক আমিনুলকেই। ফরিদপুরে থাকা মা-বাবাকে বুঝিয়ে বন্দোবস্ত করা হলো খেলার। তারকা আমিনুলের কথা না শোনার ‘সাহস’ দেখাতে পারেননি আমার ফুটবলপাগল বাবাও। সেই থেকে তিনি তরুণ এক ফুটবলারের হৃদয়ের অধিনায়ক।”
দীর্ঘ এই আবেগঘন বার্তার শেষে আমিনুল হকের জন্য শুভকামনা জানিয়ে রাশেদুল লিখেছেন, “সময় বদলায়, ভূমিকা বদলায়, কিন্তু শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বদলায় না। শুভকামনা, ‘মাই ক্যাপ্টেন’।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
রিপোর্টারের নাম 























