ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় রাত: চেলসির জয় অধরা, ম্যানইউয়ের শেষ মুহূর্তের স্বস্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একই রাতে জয়-পরাজয়ের ভিন্ন চিত্র দেখা গেল দুটি বড় ক্লাবের। যেখানে চেলসি দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রায় নিশ্চিত পরাজয় থেকে শেষ মুহূর্তে গোল করে পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে।

লিয়াম রোজেনিয়রের অধীনে সম্প্রতি দারুণ ফর্মে থাকা চেলসি লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পেলে টানা পঞ্চম লিগ জয়ের রেকর্ড গড়ত। ম্যাচের শুরুটা তাদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথমার্ধে জোয়াও পেদ্রোয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্লুজরা। দ্বিতীয়ার্ধে কোল পালমার পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে (২-০) মনে হচ্ছিল জয় তাদের মুঠোয়। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ।

তবে, ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চিত, তা আবারও প্রমাণ করল লিডস। জেইডেন বোগলের ফাউলের শিকার হওয়ার পর প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে লুকাস এনমেচা গোল করে ব্যবধান কমান (২-১)। গোল হজমের পর চেলসির রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নোয়াহ ওকাফোর গোল করে সমতা ফেরান (২-২)। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি তখন স্তব্ধ। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে কোল পালমারের সামনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশায় ডুবে যায় চেলসি। নিশ্চিত তিন পয়েন্ট হাতছাড়া করে তারা একটি পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট হ্যামের মাঠে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও ছিল কঠিন পরীক্ষার মুখে। টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়ে তারা শীর্ষ তিনে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টমাস সোসেকের গোলে স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যাম এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। কোবি মাইনুর ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেডে গোল হলেও ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়, ফলে উল্লাস স্থায়ী হয়নি।

সময় যত গড়িয়েছে, পরাজয়ের শঙ্কা ততই ঘনীভূত হয়েছে। ওয়েস্ট হ্যাম যখন জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর একটি বাঁকানো ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন বেঞ্জামিন সেসকো। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ওয়েস্ট হ্যামের স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

২৬ ম্যাচ শেষে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চার নম্বরেই অবস্থান করছে। জিততে পারলে তারা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কিছুটা কমাতে পারত। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট কম নিয়ে চেলসি পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক রাতে দুই দলের ভিন্ন অভিজ্ঞতা – চেলসির জন্য হারানো জয়, আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য বাঁচানো হার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভরাডুবি: ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হওয়ার ঝুঁকিতে শ্রীলঙ্কা, সাঙ্গাকারার কড়া হুঁশিয়ারি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় রাত: চেলসির জয় অধরা, ম্যানইউয়ের শেষ মুহূর্তের স্বস্তি

আপডেট সময় : ১২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একই রাতে জয়-পরাজয়ের ভিন্ন চিত্র দেখা গেল দুটি বড় ক্লাবের। যেখানে চেলসি দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রায় নিশ্চিত পরাজয় থেকে শেষ মুহূর্তে গোল করে পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে।

লিয়াম রোজেনিয়রের অধীনে সম্প্রতি দারুণ ফর্মে থাকা চেলসি লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পেলে টানা পঞ্চম লিগ জয়ের রেকর্ড গড়ত। ম্যাচের শুরুটা তাদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথমার্ধে জোয়াও পেদ্রোয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্লুজরা। দ্বিতীয়ার্ধে কোল পালমার পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে (২-০) মনে হচ্ছিল জয় তাদের মুঠোয়। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ।

তবে, ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চিত, তা আবারও প্রমাণ করল লিডস। জেইডেন বোগলের ফাউলের শিকার হওয়ার পর প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে লুকাস এনমেচা গোল করে ব্যবধান কমান (২-১)। গোল হজমের পর চেলসির রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নোয়াহ ওকাফোর গোল করে সমতা ফেরান (২-২)। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি তখন স্তব্ধ। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে কোল পালমারের সামনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশায় ডুবে যায় চেলসি। নিশ্চিত তিন পয়েন্ট হাতছাড়া করে তারা একটি পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট হ্যামের মাঠে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও ছিল কঠিন পরীক্ষার মুখে। টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়ে তারা শীর্ষ তিনে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টমাস সোসেকের গোলে স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যাম এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। কোবি মাইনুর ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেডে গোল হলেও ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়, ফলে উল্লাস স্থায়ী হয়নি।

সময় যত গড়িয়েছে, পরাজয়ের শঙ্কা ততই ঘনীভূত হয়েছে। ওয়েস্ট হ্যাম যখন জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর একটি বাঁকানো ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন বেঞ্জামিন সেসকো। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ওয়েস্ট হ্যামের স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

২৬ ম্যাচ শেষে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চার নম্বরেই অবস্থান করছে। জিততে পারলে তারা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কিছুটা কমাতে পারত। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট কম নিয়ে চেলসি পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক রাতে দুই দলের ভিন্ন অভিজ্ঞতা – চেলসির জন্য হারানো জয়, আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য বাঁচানো হার।