ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: শুল্ক কমল ১৯ শতাংশে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৯ মাসের নিবিড় আলোচনার পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (Agreement on Reciprocal Trade) সই হয়। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেল এবং বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

শুল্ক হ্রাস ও নতুন সুবিধা: বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত এই শুল্কের হার শুরুতে ছিল ৩৭ শতাংশ, যা দরকষাকষির পর আগস্টে ২০ শতাংশে আনা হয়েছিল। বর্তমানে তা আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াল।

চুক্তির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো তৈরি পোশাক খাতের সুবিধা। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা (Cotton) এবং কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না (অর্থাৎ ০% শুল্ক)। এছাড়াও আড়াই হাজার বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশও প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি মার্কিন পণ্যে একই ধরনের সুবিধা প্রদান করেছে।

পারস্পরিক বাজার প্রবেশাধিকার: চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ শিল্পের পণ্য, মৎস্যজাত দ্রব্য, পার্টিকেল বোর্ড এবং সব ধরনের খাদ্যপণ্যও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মার্কিন তুলা ছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য, সয়াবিন এবং নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকার দেবে।

নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তিটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: শুল্ক কমল ১৯ শতাংশে

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ৯ মাসের নিবিড় আলোচনার পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (Agreement on Reciprocal Trade) সই হয়। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেল এবং বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

শুল্ক হ্রাস ও নতুন সুবিধা: বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত এই শুল্কের হার শুরুতে ছিল ৩৭ শতাংশ, যা দরকষাকষির পর আগস্টে ২০ শতাংশে আনা হয়েছিল। বর্তমানে তা আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াল।

চুক্তির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো তৈরি পোশাক খাতের সুবিধা। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা (Cotton) এবং কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না (অর্থাৎ ০% শুল্ক)। এছাড়াও আড়াই হাজার বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশও প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি মার্কিন পণ্যে একই ধরনের সুবিধা প্রদান করেছে।

পারস্পরিক বাজার প্রবেশাধিকার: চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ শিল্পের পণ্য, মৎস্যজাত দ্রব্য, পার্টিকেল বোর্ড এবং সব ধরনের খাদ্যপণ্যও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মার্কিন তুলা ছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য, সয়াবিন এবং নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকার দেবে।

নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তিটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।