অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানামুখী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার অপরিহার্য।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস: নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি অর্থনৈতিক সংস্কার এজেন্ডা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি একসময় গভীর সংকটের মুখে পড়লেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ঝুঁকিগুলো এখনো বিদ্যমান। করোনা পরবর্তী ধাক্কা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা সত্ত্বেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপ কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। তবে এই সংকট মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই সংস্কারই আসল সমাধান।
দেশের রাজস্ব কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত হতাশাজনক। এত কম রাজস্ব নিয়ে একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা অসম্ভব। তিনি করের পরিধি বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা নিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা এই খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। এই সংকট কাটাতে হলে কঠোর তদারকি এবং রাজনৈতিক সাহসের প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে পিআরআই-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, গত দেড় বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। স্থিতিশীলতা অর্জনে কিছু অগ্রগতি হলেও প্রবৃদ্ধির গতি এখনো নড়বড়ে। তাই পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই রাজস্ব ও আর্থিক খাতে আমূল সংস্কারের সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, সঠিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পুনরায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেন। তবে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, রাজস্ব নীতি ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আলাদা করা জরুরি। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রত্যক্ষ কর জিডিপির ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।
সংলাপে প্যানেলিস্ট হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বক্তারা একমত হন যে, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 






















