অস্কারের নিয়মনীতিতে গত এক শতাব্দীর ইতিহাসে এক আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ‘অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’, যার ফলে ২০২৭ সালের ৯৯তম আসর থেকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া এখন আগের চেয়ে সহজ হবে। নতুন এই ঐতিহাসিক সংস্কার অনুযায়ী, একটি দেশ থেকে এখন আর কেবল একটি নয় বরং একাধিক চলচ্চিত্র ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
এছাড়া যদি কোনো সিনেমা কান, বার্লিন বা বুসানের মতো বড় আন্তর্জাতিক উৎসবে শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করে, তবে সেটি সরাসরি অস্কারের এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা লাভ করবে। এর ফলে বাংলাদেশের মানসম্মত সিনেমাগুলো সরাসরি বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার সুযোগ পাবে। আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো, এই পুরস্কারটি আগে দেশের অর্জন হিসেবে গণ্য হলেও এখন থেকে ট্রফিতে সরাসরি পরিচালকের নাম খোদাই করা থাকবে এবং তিনিই হবেন পুরস্কারের প্রধান প্রাপক।
একাডেমি অভিনয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, যেখানে কোনো অভিনেতা একই বছরে ভিন্ন ভিন্ন ছবির জন্য একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারবেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অস্কার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অভিনয় এবং চিত্রনাট্য হতে হবে সম্পূর্ণ মানুষের সৃজনশীলতার ফসল। জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থাকলে সে বিষয়ে একাডেমি কঠোর যাচাই-বাছাই ও অতিরিক্ত তথ্য তলব করার ক্ষমতা রাখবে।
এছাড়া কাস্টিং ডিরেক্টর বিভাগে এখন থেকে সর্বোচ্চ তিনজনকে একত্রে পুরস্কৃত করা যাবে এবং সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়ায় ২০টি চলচ্চিত্রের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎসবগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করবে এবং বাংলাদেশের সিনেমার জন্য এটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























