বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেমিসন গ্রিয়ার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের বিধান রাখা হয়েছে। তবে, উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির পরই এই নতুন শুল্ক হার কার্যকর হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছিলেন, “আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্কের হার আরও কমানোর। আশা করছি, ৯ তারিখে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এটি কার্যকর হবে। তবে ঠিক কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। আলোচনার ভিত্তিতেই এটি নির্ধারিত হবে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের উপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে, বাংলাদেশের জন্য এই শুল্কের হার ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, এই শুল্ক আরোপের সময়সীমা তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর, গত বছরের ২ আগস্ট শুল্কের হার ২০ শতাংশে নেমে আসে এবং গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে তা কার্যকর হয়। নতুন এই চুক্তি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























