ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ অর্জিত, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা নেই বলেও দাবি করেছেন।

সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইংয়ের শেষ সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এই মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, স্বৈরাচারী আমলের অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে আসা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে দেশের প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে। প্রতিটি খাতে নতুনত্ব ও সংস্কার আনা হয়েছে যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায় এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হয়েছে। এই সবকিছুর নিরিখে তার মতে, সরকারের অর্জনের পাল্লা সাফল্যের দিকেই ভারী।

উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব জানান, একজন বা দুজন উপদেষ্টা ছাড়া প্রায় সকলেই তাদের সম্পদের স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছেন এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্বে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

নির্বাচনের ভোটদানের হার সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব না হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে শফিকুল আলম দাবি করেন যে গত ১৮ মাস ধরে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল এবং যেকোনো সংবাদ প্রকাশে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো মিডিয়া হাউস যেন বন্ধ না হয় সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গণমাধ্যম পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং গণমাধ্যম খাতে বেশ কিছু সংস্কারও সাধিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পররাষ্ট্রনীতি অন্য দেশের কাছে ‘বর্গা’ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। চীন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং ১৮ বছর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ টিম পাঠাচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান যে তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, চীন একটি সম্ভাব্যতা যাচাই (feasibility study) করছে, যা সময়সাপেক্ষ।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল ভারতীয় মিডিয়ার বড় ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো। তিনি অভিযোগ করেন যে শেখ হাসিনা দিনের বেলায় ভালো কথা বললেও, কিছু মহল রাতের অন্ধকারে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নভেম্বরে নাশকতার চেষ্টা করেছিল, বাস পুড়িয়েছে এবং গির্জায় ককটেল ফাটিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে তারা অনেক টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং তাদের মিছিলে জনসমাগম নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ অর্জিত, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দাবি

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা নেই বলেও দাবি করেছেন।

সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইংয়ের শেষ সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এই মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, স্বৈরাচারী আমলের অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে আসা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে দেশের প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে। প্রতিটি খাতে নতুনত্ব ও সংস্কার আনা হয়েছে যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায় এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হয়েছে। এই সবকিছুর নিরিখে তার মতে, সরকারের অর্জনের পাল্লা সাফল্যের দিকেই ভারী।

উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব জানান, একজন বা দুজন উপদেষ্টা ছাড়া প্রায় সকলেই তাদের সম্পদের স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছেন এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্বে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

নির্বাচনের ভোটদানের হার সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব না হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে শফিকুল আলম দাবি করেন যে গত ১৮ মাস ধরে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল এবং যেকোনো সংবাদ প্রকাশে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো মিডিয়া হাউস যেন বন্ধ না হয় সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গণমাধ্যম পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং গণমাধ্যম খাতে বেশ কিছু সংস্কারও সাধিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পররাষ্ট্রনীতি অন্য দেশের কাছে ‘বর্গা’ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। চীন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং ১৮ বছর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ টিম পাঠাচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান যে তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, চীন একটি সম্ভাব্যতা যাচাই (feasibility study) করছে, যা সময়সাপেক্ষ।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল ভারতীয় মিডিয়ার বড় ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো। তিনি অভিযোগ করেন যে শেখ হাসিনা দিনের বেলায় ভালো কথা বললেও, কিছু মহল রাতের অন্ধকারে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নভেম্বরে নাশকতার চেষ্টা করেছিল, বাস পুড়িয়েছে এবং গির্জায় ককটেল ফাটিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে তারা অনেক টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং তাদের মিছিলে জনসমাগম নেই।