ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে আর বাধা নেই সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো ইসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। আগে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর হলো এবং ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কেটে গেল।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।”

একই দিন বিকেলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে মৌখিকভাবে জানান, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না, এমন পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশন সরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন খুব শিগগিরই জারি করা হবে।

এর আগে, গত রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রার্থী, সাংবাদিকসহ সবার জন্য মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ইসির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন অপরিহার্য হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর প্রতিবাদে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল এ সময় বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।”

বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে সৃষ্ট বাধা অপসারিত হলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে আর বাধা নেই সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো ইসি

আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। আগে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর হলো এবং ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কেটে গেল।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।”

একই দিন বিকেলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে মৌখিকভাবে জানান, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না, এমন পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশন সরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন খুব শিগগিরই জারি করা হবে।

এর আগে, গত রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রার্থী, সাংবাদিকসহ সবার জন্য মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ইসির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন অপরিহার্য হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর প্রতিবাদে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল এ সময় বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।”

বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে সৃষ্ট বাধা অপসারিত হলো।