দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা জোরদার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার পরিস্থিতি আকাশ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, এই প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র দ্রুত অনুধাবন এবং সঠিক সময়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, বিমান বাহিনী, র্যাব এবং বিজিবি তাদের নিজস্ব ড্রোন বহর মোতায়েন করবে। ড্রোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত লাইভ ভিডিও ফিড সরাসরি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে’ প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি, বিমান বাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হবে, যা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ। এছাড়াও, হিজড়া সম্প্রদায়ের ভোটার রয়েছে প্রায় এক হাজার। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















