ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ: মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি অংশে তামাক চাষের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত বছর এই অঞ্চলে প্রায় ২০ একর জমিতে ১১ জন কৃষক তামাক চাষ করেছিলেন, যা এবার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক এবং তামাক চাষ হালদা নদীর পানি দূষণের একটি প্রধান কারণ। এই দূষণ দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে পরিচিত হালদা নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তামাক চাষ বন্ধ হওয়ায় হালদার মৎস্যসম্পদ ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপনে হালদা অববাহিকা অঞ্চলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই অঞ্চলে তামাক চাষ বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় তামাকচাষীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন এবং তামাকের চারা রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সাধারণত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই তামাকের চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই এলাকার কৃষকদের বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা, ভুট্টা এবং বিভিন্ন সবজি চাষে উৎসাহিত করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ যাতে পুনরায় শুরু না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। হালদা নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ: মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি অংশে তামাক চাষের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত বছর এই অঞ্চলে প্রায় ২০ একর জমিতে ১১ জন কৃষক তামাক চাষ করেছিলেন, যা এবার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক এবং তামাক চাষ হালদা নদীর পানি দূষণের একটি প্রধান কারণ। এই দূষণ দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে পরিচিত হালদা নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তামাক চাষ বন্ধ হওয়ায় হালদার মৎস্যসম্পদ ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপনে হালদা অববাহিকা অঞ্চলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই অঞ্চলে তামাক চাষ বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় তামাকচাষীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন এবং তামাকের চারা রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সাধারণত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই তামাকের চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই এলাকার কৃষকদের বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা, ভুট্টা এবং বিভিন্ন সবজি চাষে উৎসাহিত করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ যাতে পুনরায় শুরু না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। হালদা নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।