ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সৎ নেতৃত্ব ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের ডাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

একটি বৈষম্যহীন, শোষনমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। তারা মনে করেন, দেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দীর্ঘদিনের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পরিবর্তনের এক সুবর্ণ সুযোগ, যা সচেতন নাগরিকদের কাজে লাগাতে হবে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স কনসর্টিয়াম’ (ইউ.টি.সি.) এবং ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল থট’ (ইউ.কে.) যৌথভাবে ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম।

সভায় শিক্ষকরা বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ ও চরিত্রবান প্রার্থীদের নির্বাচিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে মহানবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি জুলুমমুক্ত ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচনি ব্যবস্থা চাই যেখানে মানুষ নির্ভয়ে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে। চব্বিশের বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সরকারকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন বলেন, “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আমরা কোনো ভয়ের রাজত্ব দেখতে চাই না। যেখানে সম্পদ কুক্ষিগত না থেকে সুষমভাবে বণ্টিত হবে এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচে যাবে। নাগরিকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকতে হবে।”

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এদেশের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সম্পদ যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ভিনদেশি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এত রক্তপাতের পরও কি আমরা একটি সুন্দর সমাজ পেয়েছি? সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের এমন শাসক প্রয়োজন যারা জনগণকে ভালোবাসবেন এবং যাদের কোনো বিদেশি প্রভু থাকবে না।”

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউছুফ, অধ্যাপক ড. গোলাম গাউস আল-কাদেরী, ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক, ড. মেহের আফরোজ লুৎফা, ড. মোস্তফা মনজুর, অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

সৎ নেতৃত্ব ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের ডাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

আপডেট সময় : ০৩:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি বৈষম্যহীন, শোষনমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। তারা মনে করেন, দেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দীর্ঘদিনের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পরিবর্তনের এক সুবর্ণ সুযোগ, যা সচেতন নাগরিকদের কাজে লাগাতে হবে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স কনসর্টিয়াম’ (ইউ.টি.সি.) এবং ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল থট’ (ইউ.কে.) যৌথভাবে ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম।

সভায় শিক্ষকরা বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ ও চরিত্রবান প্রার্থীদের নির্বাচিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে মহানবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি জুলুমমুক্ত ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচনি ব্যবস্থা চাই যেখানে মানুষ নির্ভয়ে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে। চব্বিশের বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সরকারকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন বলেন, “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আমরা কোনো ভয়ের রাজত্ব দেখতে চাই না। যেখানে সম্পদ কুক্ষিগত না থেকে সুষমভাবে বণ্টিত হবে এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচে যাবে। নাগরিকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকতে হবে।”

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এদেশের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সম্পদ যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ভিনদেশি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এত রক্তপাতের পরও কি আমরা একটি সুন্দর সমাজ পেয়েছি? সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের এমন শাসক প্রয়োজন যারা জনগণকে ভালোবাসবেন এবং যাদের কোনো বিদেশি প্রভু থাকবে না।”

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউছুফ, অধ্যাপক ড. গোলাম গাউস আল-কাদেরী, ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক, ড. মেহের আফরোজ লুৎফা, ড. মোস্তফা মনজুর, অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।