আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অনলাইন হ্যাকার ও ডিজিটাল প্রতারক চক্রের তৎপরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি উপজেলার বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে চালানো এই সুসংগঠিত প্রতারণা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যেভাবে হচ্ছে প্রতারণা: ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে। তারা ভুক্তভোগীকে বলে, “আপনি অজান্তেই একটি অত্যন্ত গোপনীয় নিরাপত্তা গ্রুপে ঢুকে পড়েছেন, এখনই না বের হলে আইনি ঝামেলায় পড়বেন।” এরপর গ্রুপ থেকে বের হওয়ার নাম করে একটি ‘ফিশিং লিঙ্ক’ পাঠানো হয়। লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই ব্যবহারকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।
তিলকপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম সুইট, গুডুম্বা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রেজাউল করিম এবং ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের আইডি একইভাবে হ্যাক করা হয়েছে। হ্যাক করার পর তাঁদের পরিচিতজনদের কাছে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।
ত্রাণের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা: চক্রটি শুধু আইডি হ্যাক নয়, সরকারি সহায়তার প্রলোভন দিয়েও প্রতারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করা হয়। প্রতারকরা দাবি করে, ২০ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে চাল-ডাল-কম্বলসহ জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই ‘ত্রাণের ফরম পূরণ’ বাবদ প্রতিটি ফরমের জন্য ৭০০ টাকা করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দাবি করা হয়। তবে শিক্ষকদের সন্দেহ হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
সচেতন হওয়ার পরামর্শ: আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা এই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য কখনোই ফোন করে ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি (OTP) বা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করতে বলে না। এমনকি ত্রাণ বা সরকারি সহায়তার জন্য অগ্রিম টাকাও চায় না। এ ধরনের কল বা মেসেজ পাওয়া মাত্রই সেটিকে এড়িয়ে চলুন।”
পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি জরুরি পরামর্শ: ১. কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। ২. ফেসবুক আইডিতে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ (Two-Factor Authentication) সচল রাখুন। ৩. প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানান।
নির্বাচন সামনে রেখে গুজব বা প্রতারণার মাধ্যমে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 























