ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: গণসংহতির ইশতেহারে গণতন্ত্র, সাম্য ও সমৃদ্ধির অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। রবিবার রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ইশতেহার ঘোষণা করে আবুল হাসান রুবেল বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা এবং নতুন করে দেশ গঠনের এক বাস্তবসম্মত পথনকশা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছে, গণসংহতি আন্দোলন তাদের ইশতেহারের মাধ্যমে তারই রূপরেখা তুলে ধরছে।

ইশতেহারে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেখানে জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক অনুশীলনের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতি, ধর্ম, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক সকল বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অর্থনীতির রূপান্তরে দলটির ইশতেহারে বলা হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে এসে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির উৎপাদনশীল রূপান্তরে জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষির সার্বিক বিকাশেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সকল শিশুর নিরাপদ ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ‘চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না’ – এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রচলনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়নসহ সকল নারীর সমমর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের নদী, খাল, বনভূমিকে দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং প্রকৃতি উপযোগী নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নীতি সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বীকৃতি, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর বিকাশ ও তাদের জন্য সুযোগের পরিসর বৃদ্ধি করা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা এবং দেশের উৎপাদনশীল রূপান্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও ইশতেহারে আলোকপাত করা হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু ও তাসলিমা আখতারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: গণসংহতির ইশতেহারে গণতন্ত্র, সাম্য ও সমৃদ্ধির অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। রবিবার রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ইশতেহার ঘোষণা করে আবুল হাসান রুবেল বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা এবং নতুন করে দেশ গঠনের এক বাস্তবসম্মত পথনকশা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছে, গণসংহতি আন্দোলন তাদের ইশতেহারের মাধ্যমে তারই রূপরেখা তুলে ধরছে।

ইশতেহারে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেখানে জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক অনুশীলনের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতি, ধর্ম, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক সকল বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অর্থনীতির রূপান্তরে দলটির ইশতেহারে বলা হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে এসে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির উৎপাদনশীল রূপান্তরে জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষির সার্বিক বিকাশেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সকল শিশুর নিরাপদ ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ‘চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না’ – এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রচলনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়নসহ সকল নারীর সমমর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের নদী, খাল, বনভূমিকে দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং প্রকৃতি উপযোগী নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নীতি সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বীকৃতি, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর বিকাশ ও তাদের জন্য সুযোগের পরিসর বৃদ্ধি করা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা এবং দেশের উৎপাদনশীল রূপান্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও ইশতেহারে আলোকপাত করা হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু ও তাসলিমা আখতারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।