তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি উদাসীনতার প্রতিবাদে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্ল্যারহাট তিস্তা নদীর পাড়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
সংসদ সদস্য সালেহী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে সরকার শুধু ড্রেজিংয়ের কথা বলছে এবং বিশেষজ্ঞ এনে তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রহসন করছে। তিনি এটিকে সরকারের লোক দেখানো কার্যক্রম ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন। তার ক্ষুব্ধ উক্তি, ‘আন্দোলন হয় তিস্তায় আর বাজেট যায় পদ্মায়’ উপস্থিত জনতাকে নাড়া দেয়।
মাহাবুবুল আলম সালেহী আরও বলেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার ক্রেডিট নিতে চাই না। সরকার নিজেই এর ক্রেডিট নিয়ে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করুক। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা পূরণের আহ্বান জানান। এত বিশাল বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কোনো রূপরেখা না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে অহেতুক পড়ে থাকা অর্থ থেকে হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি তিস্তাপাড়ের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর জোর দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি তো আজকের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী। তাহলে সেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেন বাজেটে কোনো রূপরেখা বা টাকা রাখা হয়নি? এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তারা তিস্তা বাঁচাতে আন্দোলন করেননি, বরং ভোটের জন্য করেছেন। তিনি সরকারকে নিজেদের সেই দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এত বিশাল বাজেট থেকে রংপুরবাসী আজ বৈষম্যের শিকার। তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি পূরণ করতে হবে এবং তাদের বাঁচাতে হবে। দাবি মানা না হলে রংপুরবাসী ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নদীর তীরে পানিতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি তোলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
রিপোর্টারের নাম 



















