ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে জবাবদিহিতাহীন বাজেট নিয়ে বাপার উদ্বেগ

জবাবদিহিতাহীন ও আমলাতান্ত্রিক উপায়ে প্রণীত নতুন বাজেট দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। মেগা প্রকল্পের নামে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করে প্রকৃত অর্থে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেট বিশ্লেষণ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার নেতারা এই দাবি জানান। বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়।

মূল বক্তব্যে ফারহান হোসেন জয় বলেন, একটি সরকারের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সদিচ্ছা বাজেটের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। তিনি পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং বেবি ট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে সিএনজি মোটরে রূপান্তরের মতো সরকারের পূর্ববর্তী সফল উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে রাজনৈতিক দল দলীয় ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলনকে উৎসাহিত করে, সেই দলের সরকার যখন নদীর ড্রেজিংয়ের জন্য হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়, তখন তা জনগণের কাছে দ্বিমুখী আচরণ বলেই মনে হয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই বরাদ্দ কেবলই শুভঙ্করের ফাঁকি।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির অভিযোগ করেন, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ খাতে বাস্তবায়ন না হয়ে প্রায়শই অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়, যা অপচয় ও লোপাটের সুযোগ তৈরি করে। তিনি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ময়লাযুক্ত কয়লা আমদানি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার সমালোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার গতানুগতিক আমলানির্ভর বাজেট পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিগত বছরগুলোতে বছরের শেষপ্রান্তে বাজেটের টাকা খরচের মহাউৎসবের ফলে দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচের ওপর জোর দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: জমি ও স্বাস্থ্য জটিলতায় মানসিক চাপে ছিলেন জহুরুল আনোয়ার

পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে জবাবদিহিতাহীন বাজেট নিয়ে বাপার উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জবাবদিহিতাহীন ও আমলাতান্ত্রিক উপায়ে প্রণীত নতুন বাজেট দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। মেগা প্রকল্পের নামে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করে প্রকৃত অর্থে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেট বিশ্লেষণ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার নেতারা এই দাবি জানান। বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়।

মূল বক্তব্যে ফারহান হোসেন জয় বলেন, একটি সরকারের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সদিচ্ছা বাজেটের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। তিনি পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং বেবি ট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে সিএনজি মোটরে রূপান্তরের মতো সরকারের পূর্ববর্তী সফল উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে রাজনৈতিক দল দলীয় ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলনকে উৎসাহিত করে, সেই দলের সরকার যখন নদীর ড্রেজিংয়ের জন্য হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়, তখন তা জনগণের কাছে দ্বিমুখী আচরণ বলেই মনে হয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই বরাদ্দ কেবলই শুভঙ্করের ফাঁকি।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির অভিযোগ করেন, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ খাতে বাস্তবায়ন না হয়ে প্রায়শই অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়, যা অপচয় ও লোপাটের সুযোগ তৈরি করে। তিনি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ময়লাযুক্ত কয়লা আমদানি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার সমালোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার গতানুগতিক আমলানির্ভর বাজেট পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিগত বছরগুলোতে বছরের শেষপ্রান্তে বাজেটের টাকা খরচের মহাউৎসবের ফলে দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচের ওপর জোর দেন।