জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে মাত্র পাঁচ বছরই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো মিথ্যা আশ্বাস নয়, বরং যা বলা হবে, তা জান-প্রাণ দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। রোববার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন কোনো আশ্বাস দেব না যা বাস্তবসম্মত নয়। যা এখানে আছে, সেটারই আশ্বাস দেব এবং যা বলবো ইনশাআল্লাহ জান-প্রাণ দিয়ে সেটাই করার চেষ্টা করবো।” তিনি সহযোদ্ধাদের অতীতের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, সেভাবেই আগামী দিনের দায়িত্বও তারা পালন করবেন। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে এবং তরুণ যুবকেরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে। তারা পুরনো ও বস্তাপচা রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায় না, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। তিনি বলেন, জনগণ আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলদার ও আধিপত্যবাদের গোলামদেরকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
তিনি নাহিদ ইসলামকে এলাকার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যদি ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় আল্লাহর মেহেরবানীতে অর্জিত হয়, তাহলে সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে। তিনি বলেন, “আমরা হাতে হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করবো।”
ডা. শফিকুর রহমান একটি বেইনসাফমুক্ত, জুলুমবাজমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবার প্রতি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, হাদি এবং তাদের বন্ধুদের প্রতি ঋণী থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ হলে এবং দেশ ও জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে তারা যেমনটি চেয়েছিলেন, তেমন যোগ্য ও দীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। বেকার ভাতার মতো অপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যেমন দশ টাকা চালের কেজি ছিলো ভুয়া, তেমনি এই কার্ডগুলোও হবে সেরকম ভুয়া।” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ এই ধরনের ভুয়া কার্ডধারীদেরকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
জামায়াত আমির আক্ষেপ করে বলেন, যারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শাসনামলে নিষ্পেষিত ছিল, তাদের মধ্যে একটি অংশই এখন মজলুম অবস্থা থেকে জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যে সমস্ত অপকর্ম করে ক্ষমতাসীনরা দীর্ঘসময় এই জাতিকে কষ্ট দিয়েছে, একই অপকর্ম একটি অংশ করা শুরু করে দিয়েছে। তিনি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন, যারা মজলুম ছিলেন, তারা যেন জালিম না হন এবং মানুষকে কষ্ট দেওয়া বন্ধ করেন।
তিনি বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হওয়ার অভিযোগ করেন। অনেক বড় ব্যবসায়ী এখনও বলছেন, তাদের জিম্মি করে মিথ্যা খুনের মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। এই দাবিদারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সাড়ে ১৫ বছর যারা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে অন্য দেশের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন, ফিরে এসে তারাই মামলাবাণিজ্য করে চাঁদা দাবি করছেন।” তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসা ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সন্তানদের দাবি ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তিনি বলেন, একটি দল মাঝেমধ্যে বলে তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এটাকে ভালো কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভালো কাজটা নিজেদের ঘর থেকে শুরু করা উচিত। ঋণ খেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া আদৌ সম্ভব নয়, জনগণ এটা বোঝে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এছাড়া এনসিপি সহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 

























