ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তারেক রহমানকে নির্যাতন ও সেনাবাহিনীর বিরাজনীতিকরণ: ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক জবানবন্দি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গত রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা পরবর্তী সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় ডিজিএফআই দেশের কার্যত নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। সে সময় রাজনৈতিক সংস্কারের নামে বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তুলে এনে গোপন সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হতো। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টিও তিনি জবানবন্দিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। জেনারেল ইকবাল জানান, সেই সময় থেকেই বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গোপন কুঠুরিতে আটকে রাখার এক বিচারহীন সংস্কৃতির সূচনা হয়। সংস্থাটি তখন মনে করতে শুরু করেছিল যে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে এবং এর জন্য তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না।

জরুরি অবস্থার সময় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে নেতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয় এবং জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়। এছাড়া বাহিনীর ভেতরে ‘নগদ সংস্কৃতির’ উত্থান ঘটে এবং ঊর্ধ্বতনদের যেকোনো আদেশ অন্ধভাবে পালন করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত পিলখানা ট্র্যাজেডি বা বিডিআর বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল ইকবাল বলেন, ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহ দমনের পর পিলখানায় আটক বিডিআর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তাতে প্রায় ৫০ জন সদস্যের মৃত্যু হয় বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই ঘটনার পর বাহিনীর ভেতরে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব তীব্রতর হয়।

সাবেক এই সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, বিডিআর বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হয়েছে। যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে কেবল রাজনৈতিকভাবে অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। জবানবন্দির শেষ দিকে তিনি একটি গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনুগত সেনাবাহিনীই তার ক্ষমতার নিরঙ্কুশ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়ক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারিদের হামলা: ডিবি সদস্যসহ আহত ৭, নগদ ৪৬ লাখ টাকাসহ আটক ১৫

তারেক রহমানকে নির্যাতন ও সেনাবাহিনীর বিরাজনীতিকরণ: ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গত রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা পরবর্তী সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় ডিজিএফআই দেশের কার্যত নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। সে সময় রাজনৈতিক সংস্কারের নামে বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তুলে এনে গোপন সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হতো। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টিও তিনি জবানবন্দিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। জেনারেল ইকবাল জানান, সেই সময় থেকেই বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গোপন কুঠুরিতে আটকে রাখার এক বিচারহীন সংস্কৃতির সূচনা হয়। সংস্থাটি তখন মনে করতে শুরু করেছিল যে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে এবং এর জন্য তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না।

জরুরি অবস্থার সময় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে নেতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয় এবং জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়। এছাড়া বাহিনীর ভেতরে ‘নগদ সংস্কৃতির’ উত্থান ঘটে এবং ঊর্ধ্বতনদের যেকোনো আদেশ অন্ধভাবে পালন করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত পিলখানা ট্র্যাজেডি বা বিডিআর বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল ইকবাল বলেন, ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহ দমনের পর পিলখানায় আটক বিডিআর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তাতে প্রায় ৫০ জন সদস্যের মৃত্যু হয় বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই ঘটনার পর বাহিনীর ভেতরে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব তীব্রতর হয়।

সাবেক এই সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, বিডিআর বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হয়েছে। যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে কেবল রাজনৈতিকভাবে অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। জবানবন্দির শেষ দিকে তিনি একটি গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনুগত সেনাবাহিনীই তার ক্ষমতার নিরঙ্কুশ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়ক।