নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’ (আইএফএফআর)-এর ৫৫তম আসরে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। উৎসবের অন্যতম প্রধান বিভাগ ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’-এ সেরা নির্বাচিত হয়ে সিনেমাটি জয় করে নিয়েছে সম্মানজনক ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’। নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম শহর থেকে পুরস্কার জয়ের এই আনন্দদায়ক সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত।
উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১২টি সিনেমার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে এই গৌরব অর্জন করেছে ‘মাস্টার’। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি কেবল আন্তর্জাতিক সম্মাননাই নয়, বরং বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও নিশ্চিত করেছে। পুরস্কার হিসেবে সিনেমাটি পেয়েছে ১৫ হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড় ২১ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া ছবিটির ডাচ পরিবেশককেও সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পুরস্কারের আর্থিক মূল্যমান ৪৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘মাস্টার’ সিনেমার পটভূমি আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের একটি উপজেলার স্থানীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার জটিল সমীকরণকে কেন্দ্র করে। একজন স্কুলশিক্ষকের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এবং সেই পথ ধরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার বাস্তবধর্মী চিত্র ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে। সেই সঙ্গে মফস্বল শহরের সামাজিক বাস্তবতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকগুলোও মুন্সিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরেছেন পরিচালক।
পুরস্কার প্রদানের সময় রটারড্যাম উৎসবের জুরিবোর্ড ‘মাস্টার’ সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে জানায়, এটি একজন আদর্শবাদী মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের এক শাশ্বত আখ্যান। একজন ব্যক্তি কীভাবে পুঁজিবাদ ও ক্ষমতার বিধ্বংসী শক্তির কাছে পরাজিত হয়, তা এখানে অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখানো হয়েছে। জুরিদের মতে, একটি সাধারণ গল্প হিসেবে শুরু হলেও সিনেমাটি ধীরে ধীরে গভীর ও জটিল স্তরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে নৈতিক দোলাচলের শৈল্পিক দৃশ্যায়ন এবং অভিনয়শিল্পীদের সাবলীল পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তারকাবহুল এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ ও শরিফ সিরাজের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের। আন্তর্জাতিক এই অর্জন বাংলা চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক যাত্রায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























