আগামী দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশে একটি কল্যাণমুখী ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার কোনো স্থান থাকবে না; বরং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
শনিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের সমর্থনে এই নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাফিয়া শাসনের অবসান ঘটাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যখন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত হয়ে নিজেদের নেতাকর্মীদের হারাচ্ছে, তখন জামায়াতে ইসলামী সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা নিরাপদ পরিবেশে চলাচল করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সাতক্ষীরায় বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা স্মরণ করেন এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন এক গভীর পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। শান্তি, সুশাসন ও ন্যায়বিচারই এখন জনগণের প্রধান দাবি। জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি খাতে উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা এতে দেওয়া হয়েছে।
জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। নির্বাচিত হলে তিনি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























