মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা থাকলেও, বাংলাদেশের ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বাংলাদেশ একাধিক উৎস থেকে নিয়মিত জ্বালানি আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে ভারতের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই সামান্য হলেও, সম্প্রতি দেশটি থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ডিজেল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের প্রবণতা অনুযায়ী বছর শেষে ৪৪ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের পাঁচ হাজার টন ডিজেলের চালান দেশের মোট বাৎসরিক চাহিদার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও, ডিজেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, বাংলাদেশ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজেল আমদানি করে তার সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখে। এই স্বল্প পরিমাণ ডিজেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ‘হুলুস্থুল’ শুরু হয়েছে, তাতে মনে হতে পারে যেন ভারতের বদান্যতায় বাংলাদেশ বড় কোনো সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ ব্যবহৃত হয় কৃষি কাজে। এছাড়া গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের অধিকাংশ নৌযানে প্রধান জ্বালানি হিসেবেও ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে জ্বালানি খাতে ডিজেলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ কারণেই সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজেল আমদানি করে থাকে। ভারতও সেই সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎস থেকে আমদানি নীতিই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি, যেখানে কোনো একক দেশের সরবরাহকে অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























