মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিখোঁজ যুবক রিপন মিয়া (২৯)-এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাকিব আহমেদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়ার জেরে খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে। গত সোমবার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করছিলেন। পরে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় স্থানীয়রা একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, রিপনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাকিব আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত সাকিব আহমেদ পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমুলী গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব স্বীকার করেছেন যে, নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রিপন তাকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য সিএনজিতে থাকা জ্যাক দিয়ে রিপনের মাথায় আঘাত করেন সাকিব। এরপর রিপনের কাছে থাকা চাকু কেড়ে নিয়ে তাকে একাধিকবার আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আলামত উদ্ধার করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃত সাকিবকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















