ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে নিজেদের কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। তেল আভিভ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগের বিষয়ে স্প্যানিশ সরকার সম্প্রতি সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপ স্পেনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনায় তাদের স্পষ্ট অবস্থানকে তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান বিষয়ক নীতিমালার অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত স্পেন। অতীতে, ইরানের উপর সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্পেনের মোরন এবং রোটা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল দেশটি। এই ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে স্পেনকে ‘বিরক্তিকর’ বলে অভিহিত করেন এবং দেশটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন। এর জবাবে, স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কড়া ভাষায় বলেছিলেন, ‘আপনি একটি অবৈধ কাজের জবাব আরেকটি অবৈধ কাজ দিয়ে দিতে পারেন না, কারণ সেখান থেকেই মানবতার বড় ট্র্যাজেডিগুলোর শুরু হয়।’
সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধেও স্পেন ইসরায়েলের কঠোর সমালোচকদের মধ্যে অন্যতম ছিল। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেনই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান এবং সোচ্চার সমর্থক। এই ধারাবাহিকতাতেই ইসরায়েলের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পেনের স্বাধীন ও নীতিভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 


















