ঢাকার শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং এই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নওগাঁ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মুক্তির মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কের একপাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ রাখার পর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে হাদি হত্যার বিচার এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান, সংগঠক রাফিউল বারী রাজন এবং সহকারী মুখপাত্র নাইম হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও দেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন এখনো বন্ধ হয়নি। যেকোনো ধরনের অপশক্তি ও বিদেশি আগ্রাসন রুখে দিতে ছাত্রসমাজ রাজপথে সজাগ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ যেখানে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা, সেখানে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নগ্ন হামলা চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহত করেছে। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
সংগঠনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, হাদি হত্যার বিচার এবং সকল প্রকার দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 

























