বাংলাদেশের কিংবদন্তী অভিনেত্রী ববিতা ২০২৬ সালের ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবরে ববিতা দেশ-বিদেশের ভক্ত, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন।
নিজের এই প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, “মহান আল্লাহর কাছে আমি অসীম কৃতজ্ঞ। জীবদ্দশায় এমন একটি রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি রাষ্ট্রের কাছে এবং যারা আমাকে এই সম্মানের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
অভিনেত্রী তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে সবসময় পাশে থাকার জন্য ভক্ত ও দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার সকল ভক্ত ও দর্শকদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে আজকের এই অবস্থানে এনেছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমার অভিনয় জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি সবসময় আমার পাশে ছিল।”
চলচ্চিত্রে ববিতার পথচলা শুরু হয়েছিল প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের হাত ধরে। সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার একুশে পদকপ্রাপ্তি আমি শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানকেই উৎসর্গ করছি।”
১৯৭৫ সালে ‘নয়নমনি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ববিতা শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘বসুন্ধরা’ এবং ১৯৭৭ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি একই সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়াও ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে) এবং ‘কে আপন কে পর’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের জন্য তিনি ‘আজীবন সম্মাননা’ লাভ করেন।
বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ববিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দর্শক মহলে বিশেষ স্থান করে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ আগস্ট ‘ববিতা ডে’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন ববিতা। এরপর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। অভিনয় প্রসঙ্গে ববিতা জানান, “যদি আমার চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প আবর্তিত হয় এবং গল্প আমার ভালো লাগে, তবেই আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। অন্যথায়, ভালো গল্প বা চরিত্র না পেলে আর অভিনয়ে ফেরা হবে না।”
ববিতা তাঁর কর্মজীবনে প্রায় তিনশত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার নাম ছিল ‘ববিতা মুভিজ’। ‘ফুলশয্যা’, ‘আগমন’, ‘লটারী’, ‘চন্ডিদাস রজকিনী’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ ও ‘লেডি স্মাগলার’ তাঁর প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ববিতার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। ববিতা তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নায়করাজ রাজ্জাক, জাভেদ, ওয়াসিম, ফারুক, সোহেল রানা, জাফর ইকবালসহ আরও অনেক জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























