বাগেরহাট-১ সংসদীয় আসনে (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা বিরামহীনভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। এই আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ঘোড়া প্রতীকের ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে।
প্রার্থীদের অবস্থান ও প্রচারণা:
কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (ধানের শীষ): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, যিনি আন্তর্জাতিক মহলে একজন হিন্দু কমিউনিটি লিডার এবং মতুয়া ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচিত, এবার এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চিতলমারী উপজেলার এই কৃতি সন্তান, যিনি বিগত দিনে সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না, তাকে আসন ধরে রাখতে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। অতীতে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল এবং শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন বিপুল সংখ্যক হিন্দু ভোট পেয়ে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “হারানো এই আসনটিকে উদ্ধার করে প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। সে লক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলছি।”
অধ্যক্ষ মশিউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা): ১১ দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিতলমারী উপজেলার আরেক কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ মশিউর রহমান। তিনি হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে এলাকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের খাদেম হিসেবে কাজ করতে চাই। সেজন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করে আপনাদের অধিকার বুঝে নিন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী।”
এম.এ.এইচ সেলিম (ঘোড়া): সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও সিলভার গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি এম.এ.এইচ সেলিম এই আসনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিগত ১/১১ পূর্ববর্তী সময়ে তিনি বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। শিল্পপতি সেলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা জানেন আমি পূর্বে এমপি নির্বাচিত হয়ে বাগেরহাট-২ আসনকে যেমনভাবে সাজিয়েছি, এবার বিজয়ী হয়ে এই ১ আসনকে তদ্রুপ সাজাতে চাই।”
ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা (ফুটবল): শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা এবার দল তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোল্লাহাটের এই কৃতি সন্তান বলেন, “দুঃসময়ে দলকে ও দলের নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে রয়েছি। মামলা-মোকদ্দমায় লড়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে দল আমাকে অবমূল্যায়ন করেছে। এলাকার মানুষ ভোটের মাঠে আমাকে সঠিক মূল্যায়ন করবে এবং আমি ফুটবল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।”
এই আসনে ভোটারদের রায় কার পক্ষে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে, প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা এবং ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাগেরহাট-১ আসনে একটি জমজমাট এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























