চট্টগ্রামে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত চারটি ফ্ল্যাটের ভাড়া আত্মসাৎ, নির্মাণাধীন অ্যাপার্টমেন্টের চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক বোনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার ভাই। প্রায় ১১ বছর ধরে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার বেশি ভাড়া না দেওয়া এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি আতাউল করিম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি গ্রহণ করে খুলশী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি ১৩৬ মাস ধরে চারটি ফ্ল্যাট থেকে আদায়কৃত ভাড়া তার বোন শাহিনা আক্তার নাহিদ (৪৩) বাদীর প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেননি। এছাড়াও, নতুন একটি নির্মাণাধীন ভবনের ফ্ল্যাট বন্টনে ইসলামী শরীয়াহ নীতি অনুসরণ না করে বাদীর প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বারবার ভাড়া বাবদ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলেও শাহিনা আক্তার নাহিদ তা দিতে গড়িমসি করেছেন।
ভুক্তভোগী আতাউল করিমের অভিযোগ, এই বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকেও তিনি আশানুরূপ সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বাদীর পৈতৃক সম্পত্তির উপর নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় ৪৬.৩১ শতাংশ ভূমিতে ইকুইটি প্রপার্টিজের মাধ্যমে ‘ইকুইটি অর্ণব’ নামে একটি নয়তলা ভবন নির্মিত হয়। এই ভবনে বাদীর পিতা মরহুম ছালেহ আহমেদের ১১ জন ওয়ারিশ ডেভলাপার কোম্পানির কাছ থেকে মোট ১৮টি ফ্ল্যাট বুঝে পান। এর মধ্যে ১১ জন ওয়ারিশ প্রত্যেকে একটি করে ফ্ল্যাট বুঝে পান এবং দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাদের মায়ের মৃত্যুর পর মোট চারটি ফ্ল্যাট ‘কমন ফ্ল্যাট’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, আপস বন্টননামা অনুসারে পরিবারের তিনজন সদস্য ফ্ল্যাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও, সকলের সম্মতিক্রমে এই দায়িত্ব শাহিনা আক্তার নাহিদকে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বাদীর প্রাপ্য ভাড়া নিয়মিত হস্তান্তর করেননি। ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩৬ মাসের ভাড়া, যার পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা, বাদীর প্রাপ্য হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাসে শাহিনা আক্তার নাহিদ বাদীর কাছে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন, যা বাদী মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন। গত বছরের ২ ডিসেম্বর বাদীর পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলে তিনি বাদীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বাদীর ফ্ল্যাটে গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
আতাউল করিমের অভিযোগ, তাদের আরেকটি পারিবারিক জমিতে এরিয়াল প্রপার্টিজ নামে একটি ডেভলাপার কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছে। নির্মাণাধীন ওই ভবনের ফ্ল্যাট বন্টনেও তার বোন নাহিদ প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। ইসলামী শরীয়াহ নীতি মেনে তাকে ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দুই ভাই মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ভাইয়ের ফ্ল্যাট তিনি হেবা হিসেবে পেয়েছেন দাবি করে ভোগ দখল করছেন, যা আইনসম্মত নয় বলে আতাউল করিমের দাবি। এছাড়াও, একজন বোন শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় তার ফ্ল্যাটটিও নাহিদ ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ আনেন আতাউল।
এর আগেও গত বছরের ১৪ জুলাই শাহিনা আক্তার নাহিদ, মো. ফজলুল করিম এবং পারভীন আক্তার (জবা)-এর বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন তাদের অপর ভাই মো. জিয়াউল করিম। সেই মামলায়ও ভাড়া আদায় করে বুঝিয়ে না দেওয়া, ফ্ল্যাটে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছিল। একইসাথে, জিয়াউল করিমের অভিযোগ ছিল যে বিবাদী ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা গায়ের জোরে ভোগ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহিনা আক্তার নাহিদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি ১১ বছর ধরে টাকা পেয়েছি। আমি ২০২৩ সালের পর ভবন পরিচালনার দায়িত্বে এসেছি। সবকিছু আমাদের সকল ভাই-বোনের অংশগ্রহণে মিটমাট হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন যে, তার ভগ্নিপতি আলী খানের প্ররোচনায় তার ভাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক জানিয়েছেন, তিনি কোন হয়রানি করেননি। তিনি বাদীকে আরও দুয়েকজন সাক্ষী হাজির করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ মামলায় শুধু তার স্ত্রীকেই সাক্ষী করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























