ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‘রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে’—ট্রাইব্যুনালে পুলিশ কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে দুই রাজনৈতিক কর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক মনরঞ্জন মিস্ত্রী। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

জবানবন্দিতে মনরঞ্জন মিস্ত্রী জানান, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার একেএম আহসান উল্যাহ তাকে ডেকে বলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একটি বিশেষ কাজ করে দিতে হবে। কাজের ধরন জানতে চাইলে এসপি তাকে রাতে অভিযানে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে তিনি অসম্মতি জানালে তাকে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও পদোন্নতি আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে হাইওয়েতে টহলের সময় তিনি দেখতে পান এসপির গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস তাদের অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নিহতরা ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লা। দীর্ঘদিন পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় একজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ কর্মকর্তার এমন সাক্ষ্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত: ১৬ নেতার পদত্যাগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

‘রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে’—ট্রাইব্যুনালে পুলিশ কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৯:১৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে দুই রাজনৈতিক কর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক মনরঞ্জন মিস্ত্রী। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

জবানবন্দিতে মনরঞ্জন মিস্ত্রী জানান, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার একেএম আহসান উল্যাহ তাকে ডেকে বলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একটি বিশেষ কাজ করে দিতে হবে। কাজের ধরন জানতে চাইলে এসপি তাকে রাতে অভিযানে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে তিনি অসম্মতি জানালে তাকে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও পদোন্নতি আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে হাইওয়েতে টহলের সময় তিনি দেখতে পান এসপির গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস তাদের অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নিহতরা ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লা। দীর্ঘদিন পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় একজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ কর্মকর্তার এমন সাক্ষ্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।