ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিএসটিআই-এর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন (ইএসডিও) পরিচালিত একটি গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে এবং এটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয় এবং এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথমবার টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নেও টুথপেস্ট ও কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের জন্য উৎপাদনকারীদের ১৭ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, টুথপেস্টের জন্য ‘বিডিএস ১২১৬:২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ শীর্ষক একটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যমান রয়েছে। সরকার এসআরও নং ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নং ৫১-আইন/২০১৯ জারির মাধ্যমে টুথপেস্ট পণ্য বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রে বিএসটিআই থেকে এই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও সেফটি প্যারামিটার পরীক্ষা করে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে।

বিএসটিআই-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যদিও বিএসটিআই প্রণীত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধি-নিষেধ উল্লেখ নেই, তবে সেখানে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। বিএসটিআই কর্তৃক সনদ প্রদানের সময় টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে, বিধিমোতাবেক টুথপেস্ট উৎপাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথা নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেলেই তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে অথবা এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত: ১৬ নেতার পদত্যাগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিএসটিআই-এর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৯:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন (ইএসডিও) পরিচালিত একটি গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে এবং এটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয় এবং এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথমবার টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নেও টুথপেস্ট ও কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের জন্য উৎপাদনকারীদের ১৭ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, টুথপেস্টের জন্য ‘বিডিএস ১২১৬:২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ শীর্ষক একটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যমান রয়েছে। সরকার এসআরও নং ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নং ৫১-আইন/২০১৯ জারির মাধ্যমে টুথপেস্ট পণ্য বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রে বিএসটিআই থেকে এই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও সেফটি প্যারামিটার পরীক্ষা করে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে।

বিএসটিআই-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যদিও বিএসটিআই প্রণীত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধি-নিষেধ উল্লেখ নেই, তবে সেখানে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। বিএসটিআই কর্তৃক সনদ প্রদানের সময় টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে, বিধিমোতাবেক টুথপেস্ট উৎপাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথা নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেলেই তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে অথবা এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।