ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে এতদিন জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় ছিলেন। ভোটের মাঠে এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী জোটের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে ভোটের সমীকরণ অনেক পাল্টে গেছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ ফেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া আসনটিতে আরো দুই প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী বদরুদ্দোজা ও জাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ। তবে এই তিন প্রার্থীর কেউই স্থানীয়ভাবে তেমন পরিচিত ও জনপ্রিয় না হওয়ায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমানে আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে শক্ত লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

ড. রেজা কিবরিয়ার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া স্থানীয়ভাবে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য ভোটের মাঠে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে সুজাতকে সমর্থন দিচ্ছেন। যদিও পদধারী কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে সুজাতের পক্ষে কোনো কর্মসূচি বা প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও গণসংযোগ করে ভালো অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সুজাতের লাভ হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ফলে আসনটিতে এবার মূল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী শেখ সুজাতের মধ্যে।

বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন সুজাত। তাছাড়া জামায়াত সমর্থকদের মাঝে বিভাজন তৈরি হওয়ায় বৃহৎ একটি অংশ শেখ সুজাতের বলয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শেখ সুজাতের ভাগ্য খুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: সংঘর্ষের জেরে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ১

বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে এতদিন জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় ছিলেন। ভোটের মাঠে এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী জোটের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে ভোটের সমীকরণ অনেক পাল্টে গেছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ ফেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া আসনটিতে আরো দুই প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী বদরুদ্দোজা ও জাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ। তবে এই তিন প্রার্থীর কেউই স্থানীয়ভাবে তেমন পরিচিত ও জনপ্রিয় না হওয়ায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমানে আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে শক্ত লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

ড. রেজা কিবরিয়ার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া স্থানীয়ভাবে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য ভোটের মাঠে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে সুজাতকে সমর্থন দিচ্ছেন। যদিও পদধারী কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে সুজাতের পক্ষে কোনো কর্মসূচি বা প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও গণসংযোগ করে ভালো অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সুজাতের লাভ হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ফলে আসনটিতে এবার মূল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী শেখ সুজাতের মধ্যে।

বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন সুজাত। তাছাড়া জামায়াত সমর্থকদের মাঝে বিভাজন তৈরি হওয়ায় বৃহৎ একটি অংশ শেখ সুজাতের বলয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শেখ সুজাতের ভাগ্য খুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।