ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লব: মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লব-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলায় নতুন বছরে ৯৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এসব আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর প্রসিকিউশন যাচাই-বাছাই শেষে জানুয়ারিতে চারটি মামলায় ৮৮ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে দুটি মামলায় ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনাল আরও চারটি মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে। চলতি মাসেই আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত গুমের দুটি মামলা এবং জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং আশুলিয়া হত্যা মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ উল্লিখিত মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে জুলাইযোদ্ধা ও দেশবাসীর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা নিয়ে এক ধরনের আক্ষেপ ছিল। তবে সেই সময়টা ছিল মূলত তদন্ত কার্যক্রমের পর্যায়। যেকোনো মামলা বিচারের জন্য আনতে হলে আগে তার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করা অপরিহার্য। গত এক বছর তিন মাস বা এক বছর চার মাস ধরে তদন্ত সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করেছে। আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার মামলা, চাঁনখারপুলের মামলা, আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলা। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও চাঁনখারপুল মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে এবং অন্যান্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের সেই তদন্তের ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে; গত এক বছরে যেসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর অভিযোগ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হচ্ছে।

প্রসিকিউটর আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্ত কার্যক্রমে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর কারণ ছিল, তদন্ত সংস্থাটির সদস্যরা নতুন ছিলেন এবং এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলার তদন্তে তাদের অভিজ্ঞতা ছিল না। এ কারণে তদন্ত শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে যে দুটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে, সেগুলোর তদন্তের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন অন্যান্য মামলার তদন্তে তুলনামূলক কম সময় লাগছে। শুরুতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সার্বিক বিচারিক কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল, তা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সবকিছু সুচারুভাবে চলছে এবং দ্রুতই আরও কয়েকটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, যার পর সেগুলোর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল প্রতি চাঁদা দাবির অভিযোগ: ব্রাহ্মণপাড়ায় তোলপাড়, কাঠগড়ায় দুই বিএনপি নেতা

জুলাই বিপ্লব: মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লব-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলায় নতুন বছরে ৯৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এসব আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর প্রসিকিউশন যাচাই-বাছাই শেষে জানুয়ারিতে চারটি মামলায় ৮৮ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে দুটি মামলায় ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনাল আরও চারটি মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে। চলতি মাসেই আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত গুমের দুটি মামলা এবং জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং আশুলিয়া হত্যা মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ উল্লিখিত মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে জুলাইযোদ্ধা ও দেশবাসীর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা নিয়ে এক ধরনের আক্ষেপ ছিল। তবে সেই সময়টা ছিল মূলত তদন্ত কার্যক্রমের পর্যায়। যেকোনো মামলা বিচারের জন্য আনতে হলে আগে তার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করা অপরিহার্য। গত এক বছর তিন মাস বা এক বছর চার মাস ধরে তদন্ত সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করেছে। আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার মামলা, চাঁনখারপুলের মামলা, আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলা। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও চাঁনখারপুল মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে এবং অন্যান্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের সেই তদন্তের ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে; গত এক বছরে যেসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর অভিযোগ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হচ্ছে।

প্রসিকিউটর আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্ত কার্যক্রমে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর কারণ ছিল, তদন্ত সংস্থাটির সদস্যরা নতুন ছিলেন এবং এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলার তদন্তে তাদের অভিজ্ঞতা ছিল না। এ কারণে তদন্ত শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে যে দুটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে, সেগুলোর তদন্তের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন অন্যান্য মামলার তদন্তে তুলনামূলক কম সময় লাগছে। শুরুতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সার্বিক বিচারিক কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল, তা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সবকিছু সুচারুভাবে চলছে এবং দ্রুতই আরও কয়েকটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, যার পর সেগুলোর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।