ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

গুলি ছাড়াই বিক্ষোভ দমন: ২৩ আহত, সরকারের দাবি শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ প্রদর্শনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। যদিও এই ঘটনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কেউই গুলিবিদ্ধ হননি বলে অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।

আজ শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং জলকামান লক্ষ্য করে উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সরকার জোর দিয়ে বলছে, এই সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন নেই।

সরকার পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকটি সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে, সরকার সকল নাগরিকের কাছে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনীয় সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদে অসংগতি: একই বইয়ের ভিড়ে উপেক্ষিত বিশ্বসেরারা

গুলি ছাড়াই বিক্ষোভ দমন: ২৩ আহত, সরকারের দাবি শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ প্রদর্শনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। যদিও এই ঘটনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কেউই গুলিবিদ্ধ হননি বলে অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।

আজ শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং জলকামান লক্ষ্য করে উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সরকার জোর দিয়ে বলছে, এই সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন নেই।

সরকার পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকটি সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে, সরকার সকল নাগরিকের কাছে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনীয় সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।