দীর্ঘ ২১ মাস পর দেশের নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে নতুন নীতি সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন আগের তুলনায় কম সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নিতে পারবে। এর প্রত্যাশিত ফলাফল হিসেবে গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সুদহার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
উল্লেখ্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে নীতি সুদহার বাড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ দফায় তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এরপর অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে এই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ওই মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিসির সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























