ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নারী ভোটকর্মীদের হেনস্তা: ৭ অভিযুক্তকে আদালতে তলব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যশোরের চৌগাছায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানোর সময় নারী ভোটকর্মীদের হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এই দুই মামলার মোট সাতজন অভিযুক্তকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল এই আদেশ জারি করেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী মো. ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, মো. শিমুল হোসেন ও কবির হোসেন এই হামলায় জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং মোবাইল ফোন, খাতা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারিক কমিটির মতে, অভিযুক্তদের এই ধরনের আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আর্টিকেল ৯১বি (৩) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই চারজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের জন্য মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

একই দিনে হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী মো. শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা চালান। তাদের বিরুদ্ধেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা গ্রহণ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৮৬ যশোর-২ সংসদীয় আসনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিভিল জজ গোলাম রসুল আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সামারি ট্রায়ালের দিন ধার্য করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের প্রতি সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স উৎসবে মোটরসাইকেল উপহার পেলেন ঢাকার গ্রাহক

নারী ভোটকর্মীদের হেনস্তা: ৭ অভিযুক্তকে আদালতে তলব

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরের চৌগাছায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানোর সময় নারী ভোটকর্মীদের হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এই দুই মামলার মোট সাতজন অভিযুক্তকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল এই আদেশ জারি করেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী মো. ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, মো. শিমুল হোসেন ও কবির হোসেন এই হামলায় জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং মোবাইল ফোন, খাতা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারিক কমিটির মতে, অভিযুক্তদের এই ধরনের আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আর্টিকেল ৯১বি (৩) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই চারজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের জন্য মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

একই দিনে হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী মো. শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা চালান। তাদের বিরুদ্ধেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা গ্রহণ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৮৬ যশোর-২ সংসদীয় আসনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিভিল জজ গোলাম রসুল আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সামারি ট্রায়ালের দিন ধার্য করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের প্রতি সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।