রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া বামনারটেক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রিয়া আক্তার (২৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। বুধবার বিকেলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে গত ৬ মার্চের ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো তিনজনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়ার মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিয়ার শরীরের প্রায় ৩২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং তার শ্বাসনালীতে গুরুতর ক্ষত ছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গত ৬ মার্চ ভোরে বামনারটেক এলাকার একটি বাসায় বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। এতে নারী, শিশু ও পুরুষসহ একই পরিবার এবং আশপাশের মোট ১০ জন দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রিয়া আক্তারের মৃত্যুর আগে এই বিস্ফোরণে আরও দুজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে আরও ৭ জন দগ্ধ ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাদের শরীর ও শ্বাসনালীর ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজ হয়ে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে চুলা জ্বালাতে গিয়েই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসতর্কতা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও সেই ভয়াবহ বার্তা দিয়ে গেল।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিয়া আক্তারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
রিপোর্টারের নাম 























