আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা-৫ আসনের দুর্গম চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও রণকৌশল ঝালিয়ে নিতে যমুনার চরাঞ্চলে ব্যাপক মহড়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলো ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এসব এলাকায় দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই প্রতিকূলতাকে বিবেচনায় নিয়ে এসব এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করতেই সেনাবাহিনীর এই আগাম প্রস্তুতি।
রংপুর এরিয়া কমান্ডার ও ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সরাসরি নির্দেশনায় এই মহড়া পরিচালিত হয়। এতে দুর্গম চরাঞ্চলে দ্রুত সেনা মোতায়েন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি উদ্ধার অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কৌশল অনুশীলন করা হয়। মূলত আকাশপথ ও নৌপথ ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুততম সময়ে জনবল ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের সময় দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরণের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই বিশেষ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করাও এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
রিপোর্টারের নাম 
























