আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সংঘটিত সাতটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় আরও নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ রনি, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চৌধুরী এবং যুবলীগের সদস্য রনি ভুঁইয়া। রায়ে সাবেক এমপি সাইফুলের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান রিফন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) আব্দুল্লাহিল কাফি, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস এবং গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন আরজু।
এছাড়া, এই মামলায় আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন এবং সাবেক এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া থানার এসআই আফজালুল হক রাজসাক্ষী হিসেবে ঘটনার সত্য প্রকাশ করায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি তৃতীয় মামলার রায়। তবে এটি ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও চানখাঁরপুল মামলার রায় ঘোষণা করেছিল।
আশুলিয়ার এই মামলায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দীন, এএসআই কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। মামলায় পলাতক আট আসামি হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং যুবলীগ কর্মী রনি ভূইয়া।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ জুলাই এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত বছরের ২১ আগস্ট মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন’ করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকাল ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে একজন গুরুতর আহত হন। মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরবর্তীতে ওই ভ্যান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ ওই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও অজ্ঞাত একজন নিহত হন।
রিপোর্টারের নাম 

























