ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটে চরম অচলাবস্থা: বহির্নোঙরে ১২০ জাহাজ, ইয়ার্ডে কনটেইনারের পাহাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতৃত্বে চলা এই কর্মসূচির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অচলাবস্থার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর উচ্চ আদালত এনসিটি টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বন্দর পরিস্থিতি। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেয় বন্দর ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নামেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। শুরুতে দৈনিক আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হলেও বর্তমানে তা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে রূপ নিয়েছে।

সাত দিন ধরে চলা এই টানা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজারে। অন্যদিকে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে অন্তত ১২০টি জাহাজ। পণ্যবাহী জাহাজের এই দীর্ঘ সারি ও ইয়ার্ডে কনটেইনার জটের ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক আদেশে পানগাঁও, কমলাপুর, মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এমনকি নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সরকারি এই কঠোর অবস্থান ও বদলির আদেশকে তোয়াক্কা করছেন না শ্রমিক নেতারা। বদলি হওয়া ১৬ জনের কেউই কর্মস্থল ত্যাগ করেননি, বরং তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে বন্দর অচল হয়ে থাকলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কার্যকর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। তাদের মতে, দ্রুত সমঝোতা না হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষমতা

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটে চরম অচলাবস্থা: বহির্নোঙরে ১২০ জাহাজ, ইয়ার্ডে কনটেইনারের পাহাড়

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতৃত্বে চলা এই কর্মসূচির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অচলাবস্থার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর উচ্চ আদালত এনসিটি টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বন্দর পরিস্থিতি। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেয় বন্দর ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নামেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। শুরুতে দৈনিক আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হলেও বর্তমানে তা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে রূপ নিয়েছে।

সাত দিন ধরে চলা এই টানা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজারে। অন্যদিকে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে অন্তত ১২০টি জাহাজ। পণ্যবাহী জাহাজের এই দীর্ঘ সারি ও ইয়ার্ডে কনটেইনার জটের ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক আদেশে পানগাঁও, কমলাপুর, মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এমনকি নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সরকারি এই কঠোর অবস্থান ও বদলির আদেশকে তোয়াক্কা করছেন না শ্রমিক নেতারা। বদলি হওয়া ১৬ জনের কেউই কর্মস্থল ত্যাগ করেননি, বরং তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে বন্দর অচল হয়ে থাকলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কার্যকর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। তাদের মতে, দ্রুত সমঝোতা না হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।