ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: সংবিধান ও ঐতিহ্যের ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবগঠিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত। সে হিসেবে, এই সংসদের মেয়াদ ২০৩১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকারি দলের নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। একই অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এক সংসদের পর পরবর্তী সংসদ শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের মেয়াদ থাকে এবং বিদায়ী সংসদের স্পিকারই নতুন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। নতুন সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরই তার দায়িত্ব শেষ হয়।

কিন্তু, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। সেই সংসদের স্পিকার অভ্যুত্থানের পরপরই পদত্যাগ করেন এবং তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে একটি অনন্য এবং ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষমতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: সংবিধান ও ঐতিহ্যের ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবগঠিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত। সে হিসেবে, এই সংসদের মেয়াদ ২০৩১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকারি দলের নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। একই অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এক সংসদের পর পরবর্তী সংসদ শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের মেয়াদ থাকে এবং বিদায়ী সংসদের স্পিকারই নতুন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। নতুন সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরই তার দায়িত্ব শেষ হয়।

কিন্তু, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। সেই সংসদের স্পিকার অভ্যুত্থানের পরপরই পদত্যাগ করেন এবং তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে একটি অনন্য এবং ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট দিয়েছে।