ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো ‘আনলার্নিং দ্য বুক’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘আনলার্নিং দ্য বুক’ শীর্ষক একটি দলীয় শিল্প প্রদর্শনী। ২৭ জন বহুমাধ্যমিক বাংলাদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে, টেক্সটাইল ও বিভিন্ন উপাদানকে কেন্দ্র করে গল্প বলার নতুন ভাষার মাধ্যমে ‘বই’-এর প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফারিহা জেবা এবং সাদিয়া মিজান যৌথভাবে এই প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন।

রবিবার, ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে অবস্থিত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ’আফেয়ার্স মি. ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক মি. ফ্রাঁসোয়া শঁম্ভো, হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেনসহ আরও অনেক বিশিষ্ট অতিথি।

উদ্বোধনের পর অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও আমন্ত্রিত বক্তাদের নিয়ে একটি সংলাপভিত্তিক বই আলোচনা সেশন এবং ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা প্রদর্শিত পরীক্ষামূলক বইগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় ট্যারো রিডিং সেশনে অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধনের সুযোগ পান।

‘আনলার্নিং দ্যা বুক’ একটি বহুমাত্রিক প্রদর্শনী, যা বইয়ের প্রচলিত কাগজভিত্তিক ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে। এই প্রকল্পটি কিউরেটরদের তত্ত্বাবধানে পিয়ার লার্নিং কর্মশালা ও ব্রেইনস্টর্মিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এখানে শিল্পীরা বইয়ের তথাকথিত গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বইয়ের প্রাচীন বস্তুগত ইতিহাসের খোঁজে তালপাতার পাণ্ডুলিপি, পুঁথি, টেক্সটাইল আর্কাইভ এবং মৌখিক ও পারফরমেটিভ গল্প বলার ধারাকে পুনরায় অন্বেষণ করেছেন।

সম্মিলিত কল্পনা এবং কিউরেটোরিয়াল দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে কাপড় হয়ে উঠেছে কাঠামো, সুতো হয়েছে লেখনী, আর সেলাই হয়েছে বর্ণনার মাধ্যম। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বাস্তবতার গল্পগুলোকে নতুন ধরনের পরীক্ষামূলক বইয়ের আকারে উপস্থাপন করেছেন। এটি একটি প্রচলিত প্রদর্শনী নয়; বরং একটি একান্ত গল্প বলার কক্ষ হিসেবে সাজানো হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা এসে সময় নিয়ে এই অপ্রচলিত বইগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এলেন জাইমা রহমান

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো ‘আনলার্নিং দ্য বুক’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘আনলার্নিং দ্য বুক’ শীর্ষক একটি দলীয় শিল্প প্রদর্শনী। ২৭ জন বহুমাধ্যমিক বাংলাদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে, টেক্সটাইল ও বিভিন্ন উপাদানকে কেন্দ্র করে গল্প বলার নতুন ভাষার মাধ্যমে ‘বই’-এর প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফারিহা জেবা এবং সাদিয়া মিজান যৌথভাবে এই প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন।

রবিবার, ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে অবস্থিত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ’আফেয়ার্স মি. ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক মি. ফ্রাঁসোয়া শঁম্ভো, হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেনসহ আরও অনেক বিশিষ্ট অতিথি।

উদ্বোধনের পর অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও আমন্ত্রিত বক্তাদের নিয়ে একটি সংলাপভিত্তিক বই আলোচনা সেশন এবং ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা প্রদর্শিত পরীক্ষামূলক বইগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় ট্যারো রিডিং সেশনে অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধনের সুযোগ পান।

‘আনলার্নিং দ্যা বুক’ একটি বহুমাত্রিক প্রদর্শনী, যা বইয়ের প্রচলিত কাগজভিত্তিক ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে। এই প্রকল্পটি কিউরেটরদের তত্ত্বাবধানে পিয়ার লার্নিং কর্মশালা ও ব্রেইনস্টর্মিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এখানে শিল্পীরা বইয়ের তথাকথিত গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বইয়ের প্রাচীন বস্তুগত ইতিহাসের খোঁজে তালপাতার পাণ্ডুলিপি, পুঁথি, টেক্সটাইল আর্কাইভ এবং মৌখিক ও পারফরমেটিভ গল্প বলার ধারাকে পুনরায় অন্বেষণ করেছেন।

সম্মিলিত কল্পনা এবং কিউরেটোরিয়াল দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে কাপড় হয়ে উঠেছে কাঠামো, সুতো হয়েছে লেখনী, আর সেলাই হয়েছে বর্ণনার মাধ্যম। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বাস্তবতার গল্পগুলোকে নতুন ধরনের পরীক্ষামূলক বইয়ের আকারে উপস্থাপন করেছেন। এটি একটি প্রচলিত প্রদর্শনী নয়; বরং একটি একান্ত গল্প বলার কক্ষ হিসেবে সাজানো হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা এসে সময় নিয়ে এই অপ্রচলিত বইগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।