ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি: ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে জরাজীর্ণ সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের জুরানপুর গ্রামে একটি জরাজীর্ণ সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে এক নীরব ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত এই সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে গেছে বহু আগেই, তবুও হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর ভাঙা অংশে বস্তার মধ্যে বালি ভরে অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ফলে নতুন চালক বা বাইরের লোকজন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও সেতুর দু’পাশের নিরাপদ বেষ্টনী দেয়ালও প্রায় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে, যা যেকোনো সময় গাড়ি ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

গোয়ালমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রধান জানান, বহু বছর আগে নির্মিত সেতুটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি পাঁচ-ছয়বার অস্থায়ীভাবে মেরামত করেছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য বারবার উপজেলা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তার ভাষায়, “ইঞ্জিনিয়াররা এসে দেখে যান, আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে কাজের অগ্রগতি আমরা দেখতে পাইনি।”

সেতুর পাশেই বসবাস করেন জয়নব বিবি। প্রতিদিনের দুর্ঘটনার দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগে একটি অটোরিকশা ভাঙা অংশে পড়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। ঘটনাটি স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাত্রীদের চিৎকার শুনে আমরা ঘর থেকে ছুটে যাই। বরফ এনে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করি, মাথায় পানি দিই। সবাই তখন খুব আতঙ্কে ছিল।”

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী তোতা মিয়া জানান, এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, ভুট্টা, গম, আলুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন তাঁরা। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে বড় ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে চায় না। এতে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারেন না এবং ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, “গাড়ি না এলে ফসল বাজারে নেওয়া যায় না। অনেকেই তাই এখন কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।”

জরুরি মুহূর্তেও এই সেতু মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যা অনেক সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে ওঠে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এলেন জাইমা রহমান

কুমিল্লার দাউদকান্দি: ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে জরাজীর্ণ সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:২২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের জুরানপুর গ্রামে একটি জরাজীর্ণ সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে এক নীরব ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত এই সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে গেছে বহু আগেই, তবুও হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর ভাঙা অংশে বস্তার মধ্যে বালি ভরে অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ফলে নতুন চালক বা বাইরের লোকজন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও সেতুর দু’পাশের নিরাপদ বেষ্টনী দেয়ালও প্রায় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে, যা যেকোনো সময় গাড়ি ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

গোয়ালমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রধান জানান, বহু বছর আগে নির্মিত সেতুটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি পাঁচ-ছয়বার অস্থায়ীভাবে মেরামত করেছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য বারবার উপজেলা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তার ভাষায়, “ইঞ্জিনিয়াররা এসে দেখে যান, আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে কাজের অগ্রগতি আমরা দেখতে পাইনি।”

সেতুর পাশেই বসবাস করেন জয়নব বিবি। প্রতিদিনের দুর্ঘটনার দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগে একটি অটোরিকশা ভাঙা অংশে পড়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। ঘটনাটি স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাত্রীদের চিৎকার শুনে আমরা ঘর থেকে ছুটে যাই। বরফ এনে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করি, মাথায় পানি দিই। সবাই তখন খুব আতঙ্কে ছিল।”

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী তোতা মিয়া জানান, এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, ভুট্টা, গম, আলুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন তাঁরা। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে বড় ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে চায় না। এতে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারেন না এবং ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, “গাড়ি না এলে ফসল বাজারে নেওয়া যায় না। অনেকেই তাই এখন কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।”

জরুরি মুহূর্তেও এই সেতু মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যা অনেক সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে ওঠে।