মাদারীপুরের শিবচরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও কার্যক্রম শুরুর চেষ্টার প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা। বুধবার শিবচর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের তৎপরতা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে শিবচর উপজেলার ‘৭১ সড়ক’ সংলগ্ন কলেজ মোড় এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শিবচর থানা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্ররা ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খুনি কেন বাইরে, প্রশাসন জবাব চাই’, এবং ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ-হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এমন সব স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। মিছিল শেষে শিবচর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ এর মধ্যেই শিবচরের মাটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি শহিদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে চরম বেইমানি। গত ১৭ বছর যারা সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় বা রাজনৈতিক প্রচার চালায়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিবচরে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রজনতা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। তারা দাবি করেন, শান্তি ও গণতন্ত্র বজায় রাখতে খুনি ও স্বৈরাচারের দোসরদের আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ বা আইনবহির্ভূত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বা অন্য কোনো অজুহাতে কোনো আসামিকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ছাত্রজনতার এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















