আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট-১ (মোল্লাহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নানামুখী সমীকরণ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মূলত বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের দুই প্রভাবশালী নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা নির্বাচনী লড়াইকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করা এই প্রার্থীর মূল শক্তি দলের বিশাল ভোটব্যাংক এবং এলাকার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটার। সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ নিজের পক্ষে থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তবে তার এই যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার নিজ দলেরই দুই সাবেক নেতা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএএইচ সেলিম। আগে বাগেরহাট-২ আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনী মাঠে বেশ প্রভাব ফেলছে। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের নিজস্ব একটি সমর্থক গোষ্ঠী থাকায় তিনি দলীয় প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা এবার ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার দাবি নিয়ে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তাকে সমর্থন দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যা তার শক্তিবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে দলটির ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। আর এই ভোট বিভাজনকেই জয়ের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মশিউর রহমান। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা মশিউর রহমানের পক্ষে দলের সুসংগঠিত ক্যাডার ও জোটের শরিকরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বিএনপির ভোটব্যাংকে ফাটল ধরলে জামায়াত প্রার্থী বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
বাগেরহাট-১ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন কার্যত উন্মুক্ত। ধানের শীষ, ঘোড়া, ফুটবল নাকি দাঁড়িপাল্লা—শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে ভোট বিভাজনের এই জটিল অঙ্কে শেষ মুহূর্তের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সব মিলিয়ে একটি জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় এখন বাগেরহাটবাসী।
রিপোর্টারের নাম 





















