ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি: হলদিয়া ইউনিয়নের নাগরিক সেবায় স্থবিরতা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়নবাসীর জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। নাগরিক সেবা প্রাপ্তি থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের নয়জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রমতে, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গত প্রায় এক বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় এবং পলাতক অবস্থায় থাকার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে, সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেড়া এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, “চেয়ারম্যানকে পরিষদে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চালানোর চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”

হলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মাসুদ রানা বলেন, “চেয়ারম্যান দীর্ঘকাল ধরে পরিষদে অনুপস্থিত। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। গত এক বছর ধরে আমরা তাকে অপসারণ এবং বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছি।”

এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ১৬ নভেম্বর ইউনিয়নের নয়জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সরকারি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ইউনিয়নের নাগরিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায়, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা আরো জানান, জেলার অন্য তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু হলদিয়া ইউনিয়নে এত জনভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তার অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “অনলাইনের যুগে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রয়োজনে আমি পরিষদে আসি।” তবে, স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত এক বছর ধরে তিনি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভাসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত হননি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানান, “চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়ে আমরা সরেজমিন তদন্ত করেছি। তদন্ত কাজ শেষ হলেই এ বিষয়ে জানানো হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষমতা

চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি: হলদিয়া ইউনিয়নের নাগরিক সেবায় স্থবিরতা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়নবাসীর জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। নাগরিক সেবা প্রাপ্তি থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের নয়জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রমতে, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গত প্রায় এক বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় এবং পলাতক অবস্থায় থাকার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে, সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেড়া এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, “চেয়ারম্যানকে পরিষদে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চালানোর চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”

হলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মাসুদ রানা বলেন, “চেয়ারম্যান দীর্ঘকাল ধরে পরিষদে অনুপস্থিত। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। গত এক বছর ধরে আমরা তাকে অপসারণ এবং বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছি।”

এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ১৬ নভেম্বর ইউনিয়নের নয়জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সরকারি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ইউনিয়নের নাগরিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায়, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা আরো জানান, জেলার অন্য তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু হলদিয়া ইউনিয়নে এত জনভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তার অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “অনলাইনের যুগে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রয়োজনে আমি পরিষদে আসি।” তবে, স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত এক বছর ধরে তিনি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভাসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত হননি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানান, “চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়ে আমরা সরেজমিন তদন্ত করেছি। তদন্ত কাজ শেষ হলেই এ বিষয়ে জানানো হবে।”