বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, যা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের কাঙ্ক্ষিত। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। আগামী ১২ তারিখকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ উল্লেখ করে তিনি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে তাদের উপর চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হলেও তারা কখনও জনগণকে ছেড়ে যাননি। তারা এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন, বারবার কারাবরণ করেছেন, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন, কিন্তু জনগণকে একা ছাড়েননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা ‘সিজনাল পলিটিশিয়ান’ বা ‘বসন্তের কোকিল’ নন যে কেবল নির্বাচনের সময়েই সুন্দর কথা নিয়ে হাজির হবেন। তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতেও তারা বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না, দেশের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে থাকবেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, যারা এতদিন তাদের মতো মজলুম ছিলেন, তারা এখন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য এবং দখল বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এসব দিন শেষ হয়ে গেছে এবং মানুষ এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। আগামী ১২ তারিখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে জাতি সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগের গত সাড়ে ১৫ বছরের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে দেশের সবচেয়ে বড় মজলুম সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের শেখ হাসিনা হত্যা করেননি, অন্য কোনো সংগঠনের নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি, অন্য কোনো সংগঠনের অফিস তালাবদ্ধ করা বা নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়নি, অথবা কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তিনি মনে করেন, বিরোধী দল হিসেবে যারা বাইরে ছিলেন, তারা সবাই মজলুম ছিলেন। শুধু তাই নয়, এদেশের ১৮ কোটি মানুষ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের সদস্য, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষও মজলুম ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে, তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফী, হুমায়ুন কবির, খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, একেএম আব্দুল হামিদ এবং টাঙ্গাইল-৩ আসনের এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার প্রমুখ।
জনসভার শেষে ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাতজন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং এনসিপির প্রার্থীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
রিপোর্টারের নাম 
























