ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বললেন আরিফুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-১৮ আসনের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম ঘোষণা করেছেন যে, নারীদের অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে তার জোট বদ্ধপরিকর। তিনি নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উত্তরার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান থানার মহিলা শাখার আয়োজনে এক মহিলা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১৮ আসনের নারীদের জন্য তার পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু করা হবে এবং গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নারীদের জন্য বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আরিফুল আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করা এখন সময়ের দাবি।

এবারের নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়, বরং ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে এটি দেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন বলেও জানান আরিফুল। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট গঠন করেছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর অঙ্গীকার।

বিএনপির সমালোচনা করে আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রতিপালন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের হামলার শিকার শুধু তাদের বিরোধীরা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যারা তাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, একসঙ্গে জেল-জুলুম সহ্য করেছে- তারাও আজ বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত ও নিহত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান পশ্চিম থানা আমীর আবু সাঈদ শাহনাওয়াজ, নায়েবে আমীর মো. মামুন এবং মহিলা বিভাগের উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালিকা মর্জিনা খাতুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১০ দলীয় জোট মনোনীত এই প্রার্থী দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোড, বনবিথি আবাসিক, আজমপুর ব্র্যাক মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সংহতি জানিয়ে হাত হারানো আলোচিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল গাজী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর আগে, সকাল ১০টায় কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকা থেকে শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারণায় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কসাই বাজার হয়ে মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বললেন আরিফুল

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১৮ আসনের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম ঘোষণা করেছেন যে, নারীদের অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে তার জোট বদ্ধপরিকর। তিনি নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উত্তরার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান থানার মহিলা শাখার আয়োজনে এক মহিলা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১৮ আসনের নারীদের জন্য তার পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু করা হবে এবং গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নারীদের জন্য বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আরিফুল আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করা এখন সময়ের দাবি।

এবারের নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়, বরং ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে এটি দেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন বলেও জানান আরিফুল। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট গঠন করেছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর অঙ্গীকার।

বিএনপির সমালোচনা করে আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রতিপালন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের হামলার শিকার শুধু তাদের বিরোধীরা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যারা তাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, একসঙ্গে জেল-জুলুম সহ্য করেছে- তারাও আজ বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত ও নিহত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান পশ্চিম থানা আমীর আবু সাঈদ শাহনাওয়াজ, নায়েবে আমীর মো. মামুন এবং মহিলা বিভাগের উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালিকা মর্জিনা খাতুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১০ দলীয় জোট মনোনীত এই প্রার্থী দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোড, বনবিথি আবাসিক, আজমপুর ব্র্যাক মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সংহতি জানিয়ে হাত হারানো আলোচিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল গাজী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর আগে, সকাল ১০টায় কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকা থেকে শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারণায় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কসাই বাজার হয়ে মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।