ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: স্থবির আমদানি-রপ্তানি, পণ্য সংকটের শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের গণবদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল আটটা থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অভ্যন্তরীণ সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ হওয়ার আগেই বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের ডাক দেয়। এর আগে গত শনিবার থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ন্যায্য আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ১৬ জন কর্মচারীকে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা, পায়রা ও পানগাঁও বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ কোনো প্রবেশপথ দিয়েই পণ্যবাহী ট্রাক, লরি বা কাভার্ড ভ্যান চলাচল করতে পারেনি। শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বন্দরের প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বন্দরের ভেতরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে জেটির ভেতরে অচলাবস্থা থাকলেও বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরে এমন স্থবিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। বর্তমানে বহির্নোঙরে শতাধিক জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ভাসছে, যার বড় একটি অংশই আসন্ন রমজান মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং পণ্যমূল্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন ও মো. হুমায়ুন কবীর জানান, সাধারণ কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, রমজানের ঠিক আগমুহূর্তে শ্রমিকদের এই আন্দোলন সন্দেহজনক। এটি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে দেশের সাপ্লাই চেইন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: স্থবির আমদানি-রপ্তানি, পণ্য সংকটের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের গণবদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল আটটা থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অভ্যন্তরীণ সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ হওয়ার আগেই বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের ডাক দেয়। এর আগে গত শনিবার থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ন্যায্য আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ১৬ জন কর্মচারীকে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা, পায়রা ও পানগাঁও বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ কোনো প্রবেশপথ দিয়েই পণ্যবাহী ট্রাক, লরি বা কাভার্ড ভ্যান চলাচল করতে পারেনি। শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বন্দরের প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বন্দরের ভেতরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে জেটির ভেতরে অচলাবস্থা থাকলেও বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরে এমন স্থবিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। বর্তমানে বহির্নোঙরে শতাধিক জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ভাসছে, যার বড় একটি অংশই আসন্ন রমজান মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং পণ্যমূল্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন ও মো. হুমায়ুন কবীর জানান, সাধারণ কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, রমজানের ঠিক আগমুহূর্তে শ্রমিকদের এই আন্দোলন সন্দেহজনক। এটি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে দেশের সাপ্লাই চেইন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।