ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্রিকেটের আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এমসিসি, কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ক্রিকেটের আইনকানুনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে, যা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন সংস্করণের এই আইনগুলোতে মোট ৭৩টি পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীগুলোর মধ্যে কিছু নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো, টেস্টসহ একাধিক দিনের ক্রিকেট ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পতনের পর খেলা বন্ধ হবে না। এখন থেকে যদি দিনের শেষ ওভারের শেষ বল বা তার আগে উইকেট পড়ে, তবে খেলা অবিলম্বে বন্ধ না করে পুরো ওভারটি সম্পন্ন করা হবে। নতুন ব্যাটসম্যানকে তৎক্ষণাৎ মাঠে নেমে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। এমসিসি এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পতনের পর খেলা বন্ধ করে দেওয়া ব্যাটিং দলের জন্য অন্যায় সুবিধা তৈরি করে। এর ফলে নতুন ব্যাটসম্যান কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করা এড়াতে পারেন এবং পরের দিন খেলা শুরু করতে পারেন। নতুন নিয়মের মাধ্যমে খেলার নাটকীয়তা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরদার হবে।

বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডারদের ক্যাচ নেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে লাফিয়ে শূন্যে থাকা অবস্থায় একজন ফিল্ডার কেবল একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। ক্যাচ সম্পূর্ণ করার জন্য তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়মটি ইতোমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি এই ব্যাটগুলো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। উইলো গাছের দীর্ঘ বৃদ্ধি এবং ব্যাটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন স্তরের ক্রিকেটে ‘টাইপ ডি’ ব্যাট ব্যবহার করা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড নির্ধারণ করবে।

হিট উইকেট আউটের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যাটসম্যান বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেও এবং কিছুক্ষণ পর স্টাম্পে আঘাত লাগলেও তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে। তবে, ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের সময় কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে তিনি আউট হবেন না। এছাড়াও, ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ব্যাটসম্যান আউট হবেন। কিন্তু ব্যাট যদি প্রথমে উইকেটকিপার বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে তারপর স্টাম্পে লাগে, তবে তা আউট হিসেবে বিবেচিত হবে না।

ওভারথ্রো এবং মিসফিল্ডের মধ্যেকার পার্থক্যও নতুন আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে। স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বল যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তবে তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, কেবল বল থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে তা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। ডেড বলের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বল ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক আর ইনিংস ঘোষণা (ডিক্লেয়ার) করতে পারবেন না।

এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, “১৭৮৭ সাল থেকে ক্রিকেটের আইন পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের লক্ষ্য, এই আইনগুলো যেন আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।”

এই নতুন আইনগুলো কার্যকর হওয়ার আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগুলো প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত হবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইনগুলো প্রয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির গোলে মিয়ামির ঘামঝরানো জয়, মাঠে ভক্তের কাণ্ডে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি

ক্রিকেটের আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এমসিসি, কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ক্রিকেটের আইনকানুনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে, যা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন সংস্করণের এই আইনগুলোতে মোট ৭৩টি পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীগুলোর মধ্যে কিছু নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো, টেস্টসহ একাধিক দিনের ক্রিকেট ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পতনের পর খেলা বন্ধ হবে না। এখন থেকে যদি দিনের শেষ ওভারের শেষ বল বা তার আগে উইকেট পড়ে, তবে খেলা অবিলম্বে বন্ধ না করে পুরো ওভারটি সম্পন্ন করা হবে। নতুন ব্যাটসম্যানকে তৎক্ষণাৎ মাঠে নেমে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। এমসিসি এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পতনের পর খেলা বন্ধ করে দেওয়া ব্যাটিং দলের জন্য অন্যায় সুবিধা তৈরি করে। এর ফলে নতুন ব্যাটসম্যান কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করা এড়াতে পারেন এবং পরের দিন খেলা শুরু করতে পারেন। নতুন নিয়মের মাধ্যমে খেলার নাটকীয়তা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরদার হবে।

বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডারদের ক্যাচ নেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে লাফিয়ে শূন্যে থাকা অবস্থায় একজন ফিল্ডার কেবল একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। ক্যাচ সম্পূর্ণ করার জন্য তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়মটি ইতোমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি এই ব্যাটগুলো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। উইলো গাছের দীর্ঘ বৃদ্ধি এবং ব্যাটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন স্তরের ক্রিকেটে ‘টাইপ ডি’ ব্যাট ব্যবহার করা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড নির্ধারণ করবে।

হিট উইকেট আউটের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যাটসম্যান বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেও এবং কিছুক্ষণ পর স্টাম্পে আঘাত লাগলেও তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে। তবে, ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের সময় কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে তিনি আউট হবেন না। এছাড়াও, ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ব্যাটসম্যান আউট হবেন। কিন্তু ব্যাট যদি প্রথমে উইকেটকিপার বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে তারপর স্টাম্পে লাগে, তবে তা আউট হিসেবে বিবেচিত হবে না।

ওভারথ্রো এবং মিসফিল্ডের মধ্যেকার পার্থক্যও নতুন আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে। স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বল যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তবে তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, কেবল বল থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে তা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। ডেড বলের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বল ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক আর ইনিংস ঘোষণা (ডিক্লেয়ার) করতে পারবেন না।

এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, “১৭৮৭ সাল থেকে ক্রিকেটের আইন পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের লক্ষ্য, এই আইনগুলো যেন আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।”

এই নতুন আইনগুলো কার্যকর হওয়ার আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগুলো প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত হবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইনগুলো প্রয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।