চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। বুন্দেসলিগার শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো এবং জার্মান কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। বাভারিয়ানদের এই ট্রেবল জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করছেন দলের তিন আক্রমণভাগের তারকা—হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াজ। এই ত্রয়ীর বিধ্বংসী ফর্ম এখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
পরিসংখ্যান বলছে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে বায়ার্নের এই তিন তারকা ইতিমধ্যে ৭৫টি গোল পূর্ণ করেছেন। যেভাবে তারা জালের দেখা পাচ্ছেন, তাতে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে প্রথম আক্রমণভাগ হিসেবে এক মৌসুমে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। এখন পর্যন্ত তিনি একাই করেছেন ৪৩ গোল, যার মধ্যে ২৮টিই এসেছে বুন্দেসলিগায়। লিগে এক মৌসুমে রবার্ট লেভানডোভস্কির করা ৪১ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ভাঙার দারুণ সুযোগ রয়েছে কেইনের সামনে। অন্যদিকে, ফরাসি তরুণ মাইকেল ওলিসে গোল করার চেয়ে গোল করাতেই বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। ১৩ গোলের পাশাপাশি তিনি করিয়েছেন ২৫টি গোল। বুন্দেসলিগায় তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১৮; যেখানে এমিল ফোর্সবার্গের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২২টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডটি এখন ওলিসের হাতছানি দিচ্ছে। এছাড়া লিভারপুল থেকে আসা কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজও নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন। ৩৩ ম্যাচে ১৯ গোল ও ১৫টি অ্যাসিস্ট তার কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়।
তবে এই ত্রয়ীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ‘এমএসএন’ (মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার) ত্রয়ীর রেকর্ড স্পর্শ করা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই আক্রমণভাগ ২০১৫-১৬ মৌসুমে বার্সার হয়ে রেকর্ড ১৩১টি গোল করেছিলেন। সে সময় তাদের ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ছিল ২.৬০। বিপরীতে, বর্তমানে বায়ার্ন ত্রয়ীর ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ২.১৬।
যদিও ১৩১ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া বেশ কঠিন, তবে কেইন-ওলিসে-দিয়াজ ত্রয়ীর প্রাথমিক লক্ষ্য এখন গোলের ‘সেঞ্চুরি’ পূরণ করা। মৌসুমের বাকি অংশে তারা কতটা ধারালো হয়ে উঠতে পারেন এবং ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম কতটা উঁচুতে লিখতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 






















