নওগাঁ সদর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন—হাসান প্রামাণিক (৩৮), জাহিদ হাসান (২৫), মোস্তাফিজুর (৫৮), রুস্তম আলী (৪০) এবং বিএনপি কর্মী রাকিব হাসান (২০)। আহত অন্যান্যরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আ স ম সায়েমের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এক কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। প্রচারণা শেষে প্রার্থীর সমর্থকরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এসময় পাশের গোপাই গ্রামের কয়েকজন বিএনপি কর্মী ওই খাবারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং জামায়াতের বেশ কিছু নেতাকর্মী একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে আহত বিএনপি কর্মী রাকিব হাসানের দাবি, জামায়াত কর্মীরা রান্নার আয়োজন করছিল। তারা সেই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে ৫০-৬০ জন লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অন্যদিকে জামায়াত কর্মী হাসান প্রামাণিক অভিযোগ করেন, সেখানে কোনো বিশেষ খাবারের আয়োজন ছিল না, কিন্তু বিএনপি সমর্থকরা মিথ্যা অজুহাত তুলে পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে এবং হামলা চালায়।
নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, প্রার্থীর ওপর হামলার উদ্দেশ্যেই বিএনপি কর্মীরা পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই তণ্ডব চালিয়েছে, যাতে তাদের অন্তত আটজন কর্মী আহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযোগে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু জানান, জামায়াতের লোকজনই প্রথমে হামলা চালিয়ে তাদের দুইজন কর্মীকে আহত করেছে। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছেন বলে জানান।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























