জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতি, লুটতরাজ ও অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। তিনি ঘোষণা দেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধেই তাদের মূল সংগ্রাম (জিহাদ)।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫৬ বছরে দেশে যে অত্যাচার, দখলবাজি, লুটতরাজ, চরিত্রহীন কাজ এবং বাজে রাজনীতির ধারা ছিল, তার কবর রচনা করে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এক সময় দুর্নীতিতে পরপর তিনবার বিশ্বে এক নম্বর হয়েছিল, যা দেশের মূল সমস্যা। তার দাবি, দুর্নীতি দূর হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিগুণ হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের প্রধান লক্ষ্যই হবে দুর্নীতি বন্ধ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এর মাধ্যমে তারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রমাণ অতীতেই দিয়েছেন বলে ডা. তাহের দাবি করেন।
ভোটের প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচনের দিন দুটি ভোট দিতে হবে। একটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং অন্যটি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে। তিনি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং ‘না’ মানে দিল্লীর বশ্যতা। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করবো না।
ঘোলপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাজী মো. আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং জামায়াত নেতা আশরাফুল ইসলাম ইমরান লিটনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মাহফুজুর রহমান এবং সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ওয়াজী উল্লাহ ভুঁইয়া খোকন, ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, ইকবাল হোসেন মজুমদার, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, ব্যাংকার আবদুল মান্নান ভুঁইয়া, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক মামুন মজুমদার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক নাজমুল হক মাহাদী, জামায়াত নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আহসান উল্লাহ, ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহ মজুমদার, এটিএম খোরশেদ আলম, সমাজসেবক আবদুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা ও কর্মী।
রিপোর্টারের নাম 

























